আওয়ামী লীগ বলছে উদ্ভট পাত্তা দিচ্ছে না বিএনপি

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর জাতীয় সরকারের ফর্মুলাকে কল্পনাপ্রসূত উদ্ভট প্রস্তাব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতারা। একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত প্রস্তাব প্রসঙ্গে দলটির একাধিক নেতা পাল্টা প্রশ্ন ছোড়েন, জাফরুল্লাহর কী অথরিটি? তিনি কি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েছেন?

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদের কেন্দ্রীয় নেতারা দেশ রূপান্তরকে আরও বলেন, এগুলো উদ্ভট প্রস্তাব! কল্পনাপ্রসূত, এর বাইরে কিছুই নয়। তাদের মতে, নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। এর বাইরে অন্য কোনো উপায়ে এ দেশে কিছুই হবে না, জনগণ মানবে না।

জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বিএনপিও। দলটির নেতারা বলছেন, তার সঙ্গে আমাদের চিন্তার অনেক পার্থক্য। কারণ আমরা চাই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার। নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি ড. জাফরুল্লাহর প্রস্তাব এখনো দেখিনি। তবে কোনো ফর্মুলায় আগামী নির্বাচন হবে না। সংবিধান অনুযায়ী দেশে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

দলটির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান মনে করেন, বিশেষ কোনো মতলবের জায়গা থেকে এ ধরনের প্রস্তাবনা আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা অসাংবিধানিক এবং দেশের জনমানুষের স্বার্থবিরোধী। পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার নীল-নকশার দলিল উপস্থাপন করেছেন ডা. জাফরুল্লাহ।’

জাফরুল্লাহ চৌধুরী কি জনগণের ম্যান্ডেট না সাংবিধানিক ম্যান্ডেট নিয়ে এমন প্রস্তাব দিয়েছেন এই প্রশ্ন তুলে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, ‘উনাকে কে দায়িত্ব দিয়েছেন এসব উদ্ভট চিন্তা করার জন্য? আগে উনাকে জানতে হবে ওনার অথরিটিটা কী? এগুলো নিয়ে আওয়ামী লীগ ভাবছে না।’

জাফরুল্লাহ চৌধুরীর এমন প্রস্তাব সম্পর্কে জানেন না বলে জানিয়েছেন সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী। তবে তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ীই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর বাইরে কোনো কিছু হবে না।’ দেশের কোনো রাজনৈতিক দল সংগঠন প্রস্তাব করতেই পারেন জানিয়ে আওয়ামী লীগের অন্য সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘প্রস্তাব হতে হবে সংবিধানসম্মত। উদ্ভট কোনো প্রস্তাব আওয়ামী লীগ আমলে নেবে না।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন মনে করেন ডা. জাফরুল্লাহ কিছু মানুষকে বিতর্কের মুখে ফেলে দিচ্ছেন, ‘ইস্যুর পর ইস্যু সৃষ্টি করার জন্য তার উর্বর মস্তিষ্ক সবসময়ই সক্রিয় থাকে। তিনি যাদের নাম বলছেন তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ পেশায় সফলতার সঙ্গে দেশের জন্য, স্বীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করে সুনাম অর্জন করেছেন। জাফরুল্লাহ ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব মানুষের নাম বলে তাদের মর্যাদাহানির ষড়যন্ত্র করছেন। এটি চরম নৈতিকতাবর্জিত কর্ম।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘তাহলে গণতন্ত্রের প্রয়োজন কী? যারা সরকারি চাকরি করবেন বা বিভিন্ন পেশায় থাকবেন তারা অবসরগ্রহণের পর মন্ত্রী হয়ে দেশ চালাবেন? দেশ পরিচালনা যদি এত সহজ হতো তাহলে ১/১১ বা অন্য সামরিক সরকাররা ব্যর্থ হতো না। দেশ জগতের জগৎশ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে রাজনীতিবিদদের পরিচালনায় সঠিক পথে অগ্রসর হচ্ছে। সুতরাং সংবিধান ও গণতন্ত্রবিরোধী এ প্রস্তাব কারও কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।’ আর এসবের জন্য জাফরুল্লাহকে ষড়যন্ত্রের দায়ে অভিযুক্ত করা অথবা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় তার মানসিক চিকিৎসা করানো উচিত বলে মনে করেন স্বপন।

আগ্রহ নেই বিএনপির : জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র রায় বলেন, ‘তার প্রস্তাব আমি দেখিনি। আমার কোনো আগ্রহ নেই। জাফরুল্লাহ চৌধুরী চান নির্বাচনকালীন জাতীয় সরকার। আর আমরা চাই নিরপেক্ষ সরকার।’

ডা. জাফরুল্লাহ যে জাতীয় সরকারের প্রস্তাব দিয়েছেন তাতে পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের নাম রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আছি। আমাদের দলের অবস্থান নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার। এর বাইরে আমি যেতে পারি না। জাফরুল্লাহ চৌধুরী যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা তার কল্পনাপ্রসূত। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমার সঙ্গে তার কোনো কথাই হয়নি এ বিষয়ে।’

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রস্তাব নিয়ে সোমবার রাতে স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে হাজির হবেন। সেই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন। তবে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেবে না।