বোনের বাড়ি এসে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তরুণী

শেরপুর সদর উপজেলায় বোনের বাড়ি বেড়াতে এসে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক তরুণী। গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় বোন বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার গাজীপুর থেকে শেরপুর পৌর এলাকার চকপাঠক মহল্লায় বোনের বাড়ি বেড়াতে আসেন ওই তরুণী। সোমবার দুই বোন লছমনপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে এক কবিরাজের কাছে যাচ্ছিলেন। কবিরাজ বাড়ির কাছাকাছি একটি লেবু বাগানের ভেতরে গ্রামের সবজি বিক্রেতা হাফিজুর রহমান মন্টু ও একই ইউনিয়নের হাতি আগলা গ্রামের আলম মিয়া তাদের গতিরোধ করে। এ সময় বড় বোনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে ছোট বোনকে তুলে নিয়ে যায় তারা। বড় বোনের আর্তচিৎকারে অন্যরা এসে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে লেবু বাগান সংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় তরুণী জানান, মন্টু ও আলম তাকে ধর্ষণ করেছে।

সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হান্নান মিয়া জানান, রাতেই নয়াপাড়া গ্রাম থেকে মন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য আসামি আলমকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তরুণীকে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় পৃথক ঘটনায় শিশুসহ দুজন ও বাঁশখালীতে এক গৃহবধূ দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের জলদাসপাড়ায় গতকাল সকালে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তরুণী (১৯) ধর্ষণের অভিযোগে শংকর দাশকে (২৬) আটক করেছে পুলিশ। পরে ভুক্তভোগীর মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শংকর উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের বসরত নগরের বাসিন্দা। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।

সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন বণিক জানান, স্ত্রী-সন্তানের তথ্য গোপন রেখে তরুণীর সঙ্গে প্রেম করেন শংকর। সাত মাস ধরে তারা বিভিন্ন জায়গায় বেড়ান। গত শনিবার বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শংকর তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। এরপর তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি টালবাহানা করেন। গতকাল কৌশলে দেখা করার কথা বলে ডেকে এনে শংকরকে ধরিয়ে দেন তিনি।

অন্যদিকে উপজেলায় ফরিদ শেখের (৫২) ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক শিশু (৪)। শিশুটির মা গতকাল ফরিদের নামে মামলা করেন। তার বাড়ি বাগেরহাটের চিতলমারী থানায়। সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন বণিক জানান, গত ১২ মে বিকেলে শিশুটি আইসক্রিম কিনে বাসায় ফেরার পথে ফরিদ কৌশলে তাকে বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বাসায় ফিরে শিশুটি ব্যথার কথা বললে মা কারণ জানতে চান। এ সময় তার সঙ্গে ফরিদের করা ঘটনা জানায়। ফরিদ পলাতক। তাকে ধরার চেষ্টা চলছে।

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, উপজেলার বৈলছড়ি ও কালীপুর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী বড়কাটা এলাকায় গত শুক্রবার দুই সন্তানের জননী (৩২) দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় গত সোমবার ওই নারীর মা মামলা করলে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

বাঁশখালী থানার ওসি মো. কামাল উদ্দিন জানান, স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর ভুক্তভোগী বাবার বাড়িতে থাকতেন। গত শুক্রবার কালীপুরে এক হুজুরের কাছে গিয়ে দোয়া নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে অটোরিকশাচালক তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে কয়েকজন মিলে ধর্ষণ ও মারধর করে। পরদিন অজ্ঞান অবস্থায় পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বাঁশখালী হাসপাতালে ভর্তি করেন। জ্ঞান ফেরার পর ঘটনা জানালে পুলিশ মোক্তার (৪০), সরোয়ার (৩৫) ও নুরুল আলমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত সোমবার বিকেলে ভুক্তভোগীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।