দাঁড়িয়ে সম্মান না করায় গার্ডের চুল কর্তন যুবলীগ নেতার

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে যুবলীগ নেতাকে দেখে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান না জানানোয় এক নিরাপত্তা প্রহরীকে মারধর করে মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার রাতে উপজেলা সদরের বাওয়ার রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিরাপত্তা প্রহরীকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠা যুবলীগ নেতা জিএস সেলিম সিকদার মির্জাপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক। তার বাড়ি সদরের বাওয়ার রোডে। আর নির্যাতনের শিকার আনোয়ার হোসেনের বাড়ি উপজেলা সদরের বাওয়ার কুমারজানী গ্রামে। তিনি নির্যাতনের ঘটনায় বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে যুবলীগ নেতা সেলিম সিকদার, তার ভাই শামীম সিকদার, লাভলু মিয়া ও মোশারফ হোসেনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। ওই অভিযোগে বলা হয়, আনোয়ার হোসেন বাওয়ার রোডের খান টাওয়ারে নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে যুবলীগ নেতা সেলিম সিকদার ও তার সহযোগী লাভলু মিয়া ওই ভবনের ভাড়াটিয়া মির্জাপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম জাকির হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে যান। প্রহরী আনোয়ার হোসেন তাকে দেখে না দাঁড়ানোয় গালমন্দ করতে থাকেন সেলিম সিকদার। এ সময় আনোয়ার দুঃখ প্রকাশ করে তাকে গালমন্দ করতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হন যুবলীগ নেতা সেলিম সিকদার। পরে রাত ৯টার দিকে সেলিমের নির্দেশে তার ছোট ভাই শামীম সিকদার ও সহযোগী লাভলু মিয়াসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজন খান টাওয়ারের সামনে থেকে আনোয়ারকে টেনেহিঁচড়ে ভবনের পশ্চিম দিকে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে তারা আনোয়ারের হাত-পা চেপে ধরেন। পরে শামীম সিকদার ও মোশারফ হোসেন কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে দেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা সেলিম সিকদার বলেন, ‘ও (নিরাপত্তা প্রহরী আনোয়ার) একটা বেয়াদব। আমি যাওয়ার পরও সে বসে ছিল। আমার সঙ্গে বেয়াদবি করার কথা শুনে আমার ছেলেরা গিয়ে ওর চুল কেটে দিয়েছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য ওকে ডাকা হয়েছিল, কিন্তু আসেনি।’

মির্জাপুর থানার ওসি শেখ আবু সালেহ্ মাসুদ করিম নিরাপত্তা প্রহরীকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।’