চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় দায়ের কোপে পুলিশের কবজি বিচ্ছিন্ন করা মো. কবিরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত বৃহস্পতিবার রাতে র্যাব-৭-এর এক বার্তায় জানানো হয়, লোহাগাড়া উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় র্যাবের অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয় কবির।
গতকাল শুক্রবার সকালে র্যাব-৭-এর চান্দগাঁও ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে লোহাগাড়া বড়হাতিয়ার পাহাড়ি এলাকায় দুপক্ষের গুলি বিনিময়ের পর কবিরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় কফিল নামে তার এক সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করে র্যাব। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলায় ব্যবহৃত দা, একটি ওয়ান শ্যুটার গান, তিন রাউন্ড গুলি, তিনটি খোসা, দুটি হাঁসুয়া, একটি ছুরি ও ১৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
খন্দকার আল মঈন আরও জানান, কবির তার এলাকার ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক চোরাকারবারি’। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধে ছয়টি মামলা আছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা স্বীকারও করেছে।
কবিরকে গ্রেপ্তারের সময়ের বর্ণনা দিয়ে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া র্যাবের চট্টগ্রাম জোনের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার ভেতরে বড়হাতিয়া এলাকায় একেবারে দুর্গম পাহাড়ে কবির ও তার সহযোগী কফিল অবস্থান নিয়েছিল। সেখানে যাওয়ার কোনো রাস্তা ছিল না। জমির আইল ধরে আমরা প্রথমে একটি পাহাড়ে পৌঁছাই। কিন্তু সেখানে তল্লাশি করে তাদের পাওয়া যায়নি। আমাদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পেরে তারা অন্য একটি পাহাড় থেকে গুলিবর্ষণ করে। এতে আমাদের এক সদস্য আহত হয়। আমরা প্রথম পাহাড় থেকে নেমে ওই পাহাড়ের উদ্দেশে রওনা দিই। যখন কাছাকাছি পৌঁছাই তখন আবার আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তখন আমরাও পাল্টা গুলি করি। প্রায় ১৫-২০ মিনিট গোলাগুলির পর দেখি সুনসান নীরবতা। পাল্টা গুলি আর আসছে না। তখন আমরা গিয়ে কবিরকে বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করি।’
পুলিশ কনস্টেবলকে কুপিয়ে কবজি বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে মেজর মেহেদী হাসান বলেন, ‘কবির আগে গাছ কাটার কাজ করত। তাই সে জানত এক কোপে কীভাবে মানুষকে আহত করা যায়। জিজ্ঞাসাবাদে সে যেসব তথ্য দিয়েছে, তাতে মনে হয়েছে এটি একেবারেই পূর্বপরিকল্পিত। সে জানত, মামলা যেহেতু হয়েছে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। গ্রেপ্তার করতে এলেই কোপাবে এমন সিদ্ধান্ত সে নিয়েছিল।’
গত ১৫ মে সকালে লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের লালারখিল এলাকার মো. কবির নামে ওই আসামিকে ধরতে বাদীকে নিয়ে অভিযানে যায় পুলিশ। কবির তখন দা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। তার দায়ের কোপে লোহাগাড়া থানার কনস্টেবল মো. জনির বাম হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাদী এবং অন্য এক কনস্টেবল আহত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য জনিকে পরে ঢাকায় পাঠানো হয়। ওই ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় বান্দরবানের লামা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে কবিরের স্ত্রী রুবি আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কবিরের বাড়ি লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নের লালারখিল এলাকায়।
সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আল মঈন বলেন, বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপনে ছিল কবির। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি টের পেয়ে সেখান থেকে পুনরায় লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়ার পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল। কবিরকে গ্রেপ্তারে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-৭-এর সদস্যরা ওই পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালান। সেখানে দুপক্ষের গুলি বিনিময়ের পর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কবির এবং তার অন্য এক সহযোগী কফিলউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কবিরের বিরুদ্ধে র্যাবের পক্ষ থেকে তিনটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কবিরের সঙ্গে গ্রেপ্তার কফিল তার প্রশ্রয়দাতা এবং মাদক কারবারি।’ জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র্যাবের এ মুখপাত্র বলেন, মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এনে কফিল চট্টগ্রামে বিক্রি করত এবং তার বিরুদ্ধেও মাদক, মারামারি ও হত্যাচেষ্টাসহ ছয়টি মামলা আছে।