নিষেধাজ্ঞার উল্টো ধাক্কা

ইউক্রেনে রাশিয়া বিশেষ অভিযান শুরুর পর থেকেই ক্রমাগত নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ছে মস্কো। গত ২৫ ফেব্রুয়ারির পর কয়েক হাজার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছে রাশিয়া। এই নিষেধাজ্ঞার সিংহভাগই দিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। নিষেধাজ্ঞার কারণ রাশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া পশ্চিমা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও নিজেদের গুটিয়ে নিতে থাকে। যদিও এতে রুশ অর্থনীতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। কিন্তু সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বলছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া থেকে নিজেদের ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানই ফের মস্কোতে ফিরছে। তবে এ ক্ষেত্রে তারা কৌশল অবলম্বন করছে। ম্যাকডোনাল্ডস ক্রপ মস্কোয় থাকা তাদের ব্যবসা বিক্রি করে দিচ্ছে রাশিয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে থাকা একটি লাইসেন্সের কাছে। ওই লাইসেন্সের আওতায় খুব জলদিই আবার ভিন্ন নাম নিয়ে রাশিয়ার বাজারে খুলছে ম্যাকডোনাল্ডসের চেইনশপগুলো। ম্যাকডোনাল্ডসের মতো কোম্পানিই যখন কৌশলে ফের রাশিয়ায় ফিরছে, সে ক্ষেত্রে অন্য কোম্পানিগুলো আরও খোলাখুলিভাবে প্রবেশ করছে। অধিকাংশ কোম্পানিই বলেছিল, তারা ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ অভিযান নিয়ে যে রাজনীতি হচ্ছে, এর শিকার হতে চাইছে না। বিগ ফোর নামের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড কনসাল্টিং প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নবায়ন করে নিয়েছে। রাশিয়ায় শুধু কোম্পানিটির নাম পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারস এলএলপি (পিডব্লিউসি) জানিয়েছে, এখন তাদের রুশ শাখাটির নামকরণ হবে টেকনোলজিস অব ট্রাস্ক শিরোনামে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আস্থা তৈরি এবং খ্যাতির বিকাশ করতে কয়েক সময় সময় লাগতে পারে, আবার তা রাতারাতি হ্রাসও হতে পারে।’ যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিখ্যাত পরামর্শক কোম্পানি দেলোইটস রাশিয়ায় নাম পাল্টে হয়েছে ‘বিজনেস সলিউশনস অ্যান্ড টেকনোলজিস’। ১৮ মে রুশ মোবাইল অপারেটর এমটিএসের সঙ্গে নতুন করে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে এভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে দেলোইটস। ইওয়াই নামের প্রতিষ্ঠানটি এখন রাশিয়ায় তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছে অডিট টেকনোলজিস অ্যান্ড সলিউশনস সেন্টার। আর কেপিএমজি এখন থেকে রাশিয়ার বাজারে ব্যবসা করবে কেপিএমজি নেটওয়ার্ক নামে। কোম্পানিটি জানায়, ‘কোম্পানির নিয়ম অনুসারে প্রত্যেক সেবগ্রহীতাকেই সমানভাবে দেখা হবে।’ এসবের বাইরে আইনি সংস্থা ও বীমা কোম্পানিগুলোও ফের রাশিয়ায় ব্যবসা শুরু করছে। জুরিখ ইনস্যুরেন্স ২০ মে জানিয়েছে, তারা তাদের রুশ ব্যবসার ইউনিটটি স্থানীয় একটি গ্রুপের কাছে বিক্রি করতে সম্মত হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি ওই ক্রেতা ও নতুন কোন নামে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হবে তা জানায়নি। আইনি সংস্থা ব্রায়ান কেভ লেইটন পাইসনাম নতুন করে রাশিয়ার আইন অনুসারে এএলইউএমএনআই নামের একটি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যবসা শুরু করেছে। আবাসন খাতে বড় কোম্পানি সিবিআরই রাশিয়া ছেড়ে গেছে। রাশিয়ায় থাকা তাদের ব্যবসার অংশ স্থানীয় দুটি অ্যাফিলিয়েটেড কোম্পানির কাছে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দিয়ে গেছে সিবিআরই। আর রাশিয়ায় কোম্পানিটি এখন কোর:এক্সপি নামে পরিচালিত হবে। এ ছাড়া ফরাসি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রেনল্ট তার ব্যবসার একটি বড় অংশ অ্যাভটোভাজের (রুশ কোম্পানি) কাছে বিক্রি করেছে। তবে এই বিক্রির ক্ষেত্রে রেনল্টের কাছ থেকে একটিই শর্ত দেওয়া হয়েছে যে রেনল্ট চাইলে আবার রাশিয়ায় ফিরতে পারবে।

মজার বিষয় হলো, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এখন রাশিয়ার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানগুলো এত দিন রাশিয়া চাইলেও আইনের কারণে নিতে পারেনি। নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন ওই প্রতিষ্ঠানগুলোই রাশিয়ার সঙ্গে আপস করে নিজেদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে চাইছে। এতে রাশিয়ার আয় বাড়ছে আগের চেয়েও বেশি।