বিদেশি মুদ্রা বাঁচাতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে সব ধরনের প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও ওয়ার্কশপ খাতে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
গতকাল রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ বিষয়ে আলাদা দুটি সার্কুলার জারি করা হয়।
সার্কুলারে বলা হয়, কভিড-১৯ এর প্রভাব মোকাবিলা করে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং বহির্বিশ্বে যুদ্ধাবস্থার কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষিতে দেশে বিদেশি মুদ্রার মজুদ রাখাসহ মুদ্রা ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বিলাসপণ্যসহ অত্যাবশ্যক নয় এমন কয়েক ধরনের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সম্প্রতি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বিদেশ ভ্রমণসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সভা-সেমিনার, কর্মশালা, স্টাডি ট্যুরে অংশগ্রহণের জন্য বিদেশ গমন অব্যাহত থাকায় বিদেশি মুদ্রার ব্যবহার বেড়েছে বলেও সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশে কার্যরত ব্যাংকের কর্মীদের ব্যক্তিগত বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ রাখতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মাত্র কয়েক দিন আগে ব্যাংকের কর্মীদের দাপ্তরিক বিদেশ ভ্রমণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে জারি করা সার্কুলারে ট্রেনিং, সেমিনার ও ওয়ার্কশপ খাতে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়করণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তাদের পক্ষে এসব খাতে বিদেশে ডলার পাঠানোও বন্ধ হয়ে গেল।
জানা গেছে, দেশে আমদানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্প্রতি ডলারের দাম বেড়েছে। খোলাবাজারেও ডলারের দর ব্যাপক হারে বেড়েছে। ব্যাংকগুলোর ডলারের চাহিদা মেটাতে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৫৫০ কোটি ডলার সরবরাহ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভেও চাপ পড়েছে। বর্তমানে রিজার্ভে ৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার রয়েছে, যা গত বছরের আগস্টে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে উঠেছিল।
ডলারের চাপ কমাতে ব্যক্তিগত বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ব্যাংককর্মীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যাংককর্মী দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাড়াবাড়ি। ব্যাংককর্মীদের অনেকেরই ফলোআপ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার শিডিউল করা রয়েছে। এখন তারা চিকিৎসার জন্যও বিদেশে যেতে পারবেন না। কিন্তু এ খাতের কর্মীদের বিদেশ ভ্রমণে যে পরিমাণ ডলার ব্যয় হয় তা অত্যন্ত নগণ্য। ঢালাওভাবে ব্যক্তিগত ভ্রমণ বন্ধ করা ঠিক হয়নি।