পুঁজিবাজার ঘূর্ণায়মান তহবিলের মেয়াদ ও আকার বাড়ল

২০১০ সালের পুঁজিবাজার ধসের পর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গঠন করা স্বল্প সুদের ৯০০ কোটি টাকার ঘূর্ণায়মান ঋণ তহবিলের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়াতে সম্মতি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তহবিলটির আকারও ১৫০ কোটি টাকার বেশি বাড়ছে। গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ঘূর্ণায়মান এ তহবিল থেকে শুধু মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউকজ স্বল্প সুদে ঋণ নিতে পারে। এ তহবিলটির মেয়াদ আগামী বছরের ৩১ মার্চ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতিতে তহবিলটির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি ও ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের প্রভাবে পুঁজিবাজারে ব্যাপক দরপতন দেখা দেয়। এ প্রেক্ষাপটে গত রবিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ সচিব আবদুর রউফ চৌধুরী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সলীম উল্লাহর সঙ্গে করণীয় নির্ধারণে  বৈঠক করেন। এরপর সন্ধ্যায় ঘূর্ণায়মান তহবিলের আকার ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক। আর গতকাল সোমবার এ বিষয়ে ফিরতি চিঠিতে এ সম্মতির কথা জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, ওই ঘূর্ণায়মান ঋণ তহবিল থেকে সুদ বাবদ আদায় করা ১৫৩ কোটি টাকাও এ তহবিলে যুক্ত হবে।

২০১০ সালের পুঁজিবাজারে সৃষ্ট ধসের পর মার্জিন ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করা ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে স্বল্প সুদে ৯০০ কোটি টাকার ঋণ তহবিল করে দিয়েছিল সরকার। ২০১১ সালের জাতীয় বাজেট থেকে এ অর্থায়ন করা হয়েছিল। ওই ঋণের সুদসহ ৮৫৬ কোটি টাকা আদায় হয়। পুঁজিবাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার ওই তহবিলটিকে ঘূর্ণায়মান ঋণ তহবিলে রূপান্তর করেছিল। এ তহবিলে সুদসহ আরও ১৫৩ কোটি টাকা যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে তহবিলটির বর্তমান আকার দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯ কোটি টাকা। এ তহবিল থেকে এখন ব্রোকারেজ হাউজ বা মার্চেন্ট ব্যাংক নিজে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বা তাদের গ্রাহকদের মার্জিন ঋণ প্রদানের উদ্দেশ্যে ঋণ নিতে পারে। এই ১ হাজার ৯ কোটি টাকার তহবিলটির মেয়াদ ২০২৮ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানোর সম্মতি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।