বিদেশ থেকে পাঠানো যেকোনো অঙ্কের রেমিট্যান্সের বিপরীতে প্রণোদনা পেতে এখন আর প্রবাসীদের আয়ের উৎস দেখাতে হবে না। আগে ৫ হাজার ডলার বা ৫ লাখ টাকার বেশি পরিমাণের রেমিট্যান্সের বিপরীতে সরকারের দেওয়া প্রণোদনা পেতে বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে প্রবাসীর আয়ের উৎস বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দিতে হতো। গতকাল সোমবার থেকে সেই বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়েছে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে জারি করা সার্কুলারে বলা হয়, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স প্রেরণের বিপরীতে প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা পেতে রেমিট্যান্স প্রেরণকারীর কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই তাদের স্বজনরা দেশে বসে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রণোদনা পাবেন।
সার্কুলার জারির তারিখ অর্থাৎ সোমবার থেকেই এই নির্দেশনা কার্যকর করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।
দেশে বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়াতে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ নগদ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। ফলে করোনা মহামারীর মধ্যেও রেমিট্যান্স বাড়তে থাকে। তবে গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি কমে যায়। এ কারণে রেমিট্যান্স বাড়াতে গত ১ জানুয়ারি থেকে প্রণোদনার হার বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করে সরকার।
এরপরও ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে রেমিট্যান্স। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ১৬ শতাংশ। তবে চলতি মে মাসে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত ১৩১ কোটি ২১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের মে মাসের পুরো সময় রেমিট্যান্স এসেছিল ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।