ই-কমার্স

অর্থ পাচারে কারা দুদককে তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

ইভ্যালি ও ইঅরেঞ্জসহ অন্যান্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের নামে আত্মসাৎ করে কী পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে যুক্ত তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে এ আর্থিক কেলেঙ্কারিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কারও ব্যর্থতা ও দায় রয়েছে কি না, সেটি নিরূপণ করতে বলেছে হাইকোর্ট। ই-কমার্সে গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা, প্রতারণার শিকার গ্রাহকের অর্থ ফেরতের নির্দেশনা এবং গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতাকে চ্যালেঞ্জ করে করা আলাদা রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়।

রুলে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, এ ধরনের প্রতিষ্ঠান তদারকিতে নিয়ন্ত্রণকারী সংগঠন কেন গঠন করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে আদালত। এছাড়া ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতারণা থেকে বিরত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা নিয়েও রুল দিয়েছে হাইকোর্ট। বাণিজ্য সচিব, দুদক চেয়ারম্যান, ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম বাধন। অ্যাডভোকেট শিশির মনির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্টের এই আদেশটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে ই-কমার্সের নামে প্রতারণা কমে আসবে।’

ই-কমার্স বা অনলাইন বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় একটি ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণকারী কর্র্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আইনজীবী আনোয়ারুল ইসলাম বাধন। এছাড়া ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি ও ইঅরেঞ্জের প্রতারিত দুই গ্রাহকের পক্ষে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর আরেকটি রিট আবেদন করেন দুই আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব ও মোহাম্মদ কাউছার। এতে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে বিচারিক তদন্ত, অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে পদক্ষেপের নির্দেশনাসহ গ্রাহকের অর্থ ফেরতের নির্দেশনা চাওয়া হয়। এছাড়া ই-কমার্স ব্যবসায় প্রায় ১৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৩ গ্রাহকের পক্ষে ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চেয়ে আরেকটি রিট আবেদন করেন আইনজীবী শিশির মনির।