প্রায় সাত মাস ধরে থাইল্যান্ডের ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এখন অনেকটাই সুস্থ। আগামী মাসে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। দেশে ফিরেই রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চান তিনি। বিশেষ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে দলীয় ভূমিকা রাখার ইচ্ছে রয়েছে তার। দলের রওশনপন্থি নেতারা দেশ রূপান্তরকে এমনটাই জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রওশন এরশাদ এখন আগের থেকে সুস্থ আছেন। তিনি বিদেশে থেকে সবসময় দেশের খোঁজখবর নিচ্ছেন। এখন দেশে এসে আবার রাজনীতিতে সরাসরি সক্রিয় হবেন।’ তবে তিনি কবে নাগাদ ফিরবেন সেটি এখনো ঠিক হয়নি।
অবশ্য বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে রওশন এরশাদ জাতীয় রাজনীতিতে ও দলের ভেতর ঠিক কতটুকু সক্রিয় হতে পারবেন তা নিয়ে সন্দিহান দলের অনেক শীর্ষ নেতাই। তাদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে রওশন এরশাদ সক্রিয় হতে পারেন। সেক্ষেত্রে তিনি সরকারের সমর্থনও পেতে পারেন। কিন্তু তার যে শারীরিক অবস্থা ও দলের ভেতরে অবস্থান, তাতে কতটুকু সফল হতে পারবেন, সেটা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রওশন এরশাদের এক ঘনিষ্ঠ নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রওশন এরশাদ ব্যাংককে যাওয়ার আগে আড়াই মাস রাজধানীর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরে বেশ সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে শেষ অবধি ব্যাংককে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এখন আগের থেকে অনেকটাই সুস্থ আছেন তিনি। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি ফের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চাচ্ছেন।’
রওশন এরশাদপন্থি একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা আরও জানিয়েছেন, রওশন এরশাদ আগের থেকে অনেক ভালো আছেন। ব্যাংককে চিকিৎসাধীন থাকলেও দেশের সার্বিক অবস্থা ও রাজনীতির সব খবর রাখছেন তিনি। আগামী মাসে দেশে এসে রাজনীতিতে ফের সক্রিয় হবেন। ব্যাংকক থেকেই তিনি দেশের সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন। তার পক্ষে দুর্গত এলাকায় জাতীয় পার্টির নেতারা পানিবন্দি মানুষের মধ্যে চিঁড়া, গুড়, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করেছেন।
রওশনপন্থি আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রওশন এরশাদ দেশে এসে রাজনীতি করুন এটা আমরা চাই। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতীয় পার্টির জন্য তার রাজনীতিতে ফেরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে তিনি দেশের সব খোঁজখবর রাখছেন। যদিও তার বয়স এখন আগের থেকে বেশি। রাজনীতিতে এসে তার কেমন ভূমিকা থাকবে সে বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি।’
অবশ্য রওশন এরশাদের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া নিয়ে সন্দিহান দলের অনেক প্রেসিডিয়াম সদস্য। তাদের মতে, রওশন এরশাদের যে শারীরিক অবস্থা ও বয়স, তা বিবেচনায় নিলে দলে বা জাতীয় রাজনীতিতে তার সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া বেশ কঠিন হবে। তবে এমন হতে পারে তিনি তার ছেলে ও সংসদ সদস্য সাদ এরশাদ এবং তার অনুসারী নেতাদের আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করতে পারেন। যদিও ইতিমধ্যেই সাদ এরশাদকে আগামী নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনে ফের প্রার্থী করার ঘোষণা দিয়েছেন সাদ এরশাদের চাচা ও দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তাই সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে বা জিএম কাদেরকে চাপে রেখে ছেলের রাজনীতি ঠিক করাই হবে রওশন এরশাদের একমাত্র লক্ষ্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রেসিডিয়াম সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ম্যাডাম (রওশন এরশাদ) এখন দেশে এসে কিছুদিন রাজনীতি করবেন। তবে সেটা শুধু দলের জন্য না, তার ছেলের জন্য। সরকার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে চাপে রাখতে ম্যাডামকে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক চাল চালতে পারে। সেজন্যই দেশে এসে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে রাজনীতে সক্রিয় হতে চাইছেন রওশন এরশাদ।’
এই প্রেসিডিয়াম সদস্য আরও বলেন, বিগত সময় দেখা গেছে দলের চেয়ারম্যান যখন পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, তখন একটি পক্ষ জাতীয় পার্টিকে দমিয়ে রাখতে দলের শীর্ষ কিছু নেতাদের সঙ্গে কৌশলে যোগাযোগ করে পার্টির ক্ষতি করে। এবারও এমন কিছু হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।