আত্মসমর্পণের পর প্রদীপের স্ত্রী চুমকি কারাগারে

আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন বহুল আলোচিত ওসি প্রদীপের স্ত্রী চুমকি কারন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্পেশাল জজ মুন্সী আবদুল মজিদের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন চুমকি। আবেদনের ওপর শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে হাজতে পাঠানোর আদেশ  দেন আদালত।

দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওসি প্রদীপ দাশ  ও তার স্ত্রী চুমকি কারনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত ২৬ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন। ১৫ ডিসেম্বর বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মুন্সী আবদুল মজিদ এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। কক্সবাজারের টেকনাফে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ হত্যা মামলায় এর আগেই গ্রেপ্তার হন ওসি প্রদীপ। কিন্তু তার স্ত্রী চুমকি কারন শুরু থেকেই পলাতক ছিলেন। সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ শেষে জামিনের আবেদন জানালে আদালত তা নাকচ করে দেয়।

আদালত সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলা দায়ের করেন। এতে তাদের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়।

এদিকে দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক মাহমুদ জানান, ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত মোট ২৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। আগামী ২ মে তাকে আসামি পক্ষের জন্য জেরার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।