দ্বিতীয় দিনটা অবিশ্বাস্য প্রথম দিনের মতো রঙিন হলো না। বোর্ডে আর একটু রান, মুশফিকের আরেকটি ডাবল সেঞ্চুরি ও দিন শেষে শ্রীলঙ্কার আর দুটি উইকেট বাংলাদেশকে তৃপ্তি দিত বেশি। তবে না হওয়াতেও মন খারাপের কিছু নেই। ২২২ রানের লিড নিয়ে এখনো এই টেস্টে অতিথিদের চেয়ে একটু এগিয়েই আছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা মাত্র ৪৩ ওভারে ২ উইকেটে ১৪৩ রান করে ভয় দেখাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু মিরপুরের উইকেট তৃতীয় দিন থেকেই যে তার ভেল্কি দেখাবে না তা কে বলবে! এমনটা হলে স্পিন-পেস আক্রমণে লঙ্কাকে দ্রুত আউট করা যবে। আর এই দিকটাতেই এখন নজর দিচ্ছে বাংলাদেশ। অপরাজিত ১৭৫ রান করা মুশফিকের সঙ্গে ২৭২ রানের জুটি গড়া লিটন দাস তেমন পরিকল্পনার কথাই জানালেন।
দিনটি পুরোপুরি বাংলাদেশের নয়। শুরুর সেশনের পরপরই আগের দিনের ২৭৭ রানের সঙ্গে মাত্র ৮৮ যোগ করে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। লঙ্কান পেসারদের রাজত্ব বাংলাদেশের ৪০০ রানের স্বপ্ন ভন্ডুল করে দেয়। কাসুন রাজিথা ও আসিথা ফার্নান্ডো ক্যারিয়ার সেরা স্পেল করেন। রাজিথা প্রথমবার নিলেন ইনিংসে ৫ উইকেট আর আসিথা চারটি। শুরুর মতো দিনের শেষটাও ছিল হতাশামাখা। উদ্বোধনী জুটিতে ৯৫ রান ও পরের উইকেটে ৪৪ রানে বাংলাদেশকে কিছুটা চাপে ফেলেছে লঙ্কানরা। এই চাপ থেকে উতরে যেতে আজ সকালেই দুটো উইকেট চান লিটন। প্রথম ইনিংসে যতটা সম্ভব রিড নিতে চান বলে জানান, ‘এখনো শ্রীলঙ্কা অনেকটা পিছিয়ে আছে। আমরা কাল সকালে যদি এক-দুটা উইকেট নিতে পারি তো অনেকখানি এগিয়ে থাকব। এখানে প্রথম ইনিংসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওরা যদি আমাদের কাছাকাছি চলে আসে বা এগিয়ে যায় তাহলে আমরা ব্যাকফুটে পড়ে যাব। তো এই ইনিংসে যতখানি লিড নেওয়া যায় সেই চেষ্টা থাকবে।’
দ্রুত উইকেট নিতে স্পিনার নয় আজ পেসারদের মূল ভূমিকা রাখতে হবে বলে জানান লিটন, ‘এই পিচে পেসারদের জন্য প্রথম দিন ও আজ (দ্বিতীয়) সহযোগিতা ছিল। স্পিনারদের জন্য এখানে খুব একটা সহযোগিতা ছিল না। তবুও আমাদের স্পিনাররা খুব ভালো বল করেছে। আমাদের যে দুজন ফ্রন্টলাইন পেসার আছে ওদেরকে দায়িত্ব নিয়ে বল করতে হবে। যদি উইকেট নাও আসে রান চেক দিয়ে যেন আমরা ওদের বিপদে ফেলতে পারি। তো ওই জিনিসটার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’ লিটন নিজেদের পরিকল্পনা জানালেও শ্রীলঙ্কার পেসার রাজিথা তাদেরটা গোপনই রাখলেন ‘দেখুন, মুশফিক ও লিটন যেভাবে ব্যাট করেছে... আমাদের কাজ অনেক কঠিন ছিল। এই উইকেটে পেসাররা সুবিধা পাচ্ছিল তবুও আমরা দুজনকে আউট করতে পারছিলাম না। আমাদের জন্য ভালো যে আজ (গতকাল) সকালে আমরা ভালোভাবে কামব্যাক করেছি। এখন ম্যাচের কী পরিস্থিতি তা বলা যাচ্ছে না। কাল সকালের সেশনের পর কোনদিকে যায় জানা যাবে। আমরাও তার পরে পরিকল্পনা করব।’
কাল দিনের শুরুতে বাংলাদেশের ইনিংস আগলে রেখেছিলেন মুশফিকুর রহিম। লিটনের সঙ্গে জুটি আগের দিনের সঙ্গে মাত্র ১৯ যোগ করে বিচ্ছিন্ন হয়। লিটন ফেরেন ক্যারিয়ার সেরা ১৪১ রানে রাজিথার বলে সিøপে ক্যাচ দিয়ে। মোসাদ্দেকের ওপর ভরসা করেছিলেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। শেষ পরীক্ষিত ব্যাটার হিসেবে মুশফিককে সঙ্গ দিলে আরও এগোত দলের রান। কিন্তু শূন্য রানেই ফিরলেন চার বছর পর টেস্টে সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক। অফস্টাম্পের অনেক বাইরের বল চেজ করে সিøপে ধরা পড়েন। অষ্টম উইকেটে তাইজুলকে (১৫) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৪৯ রানের জুটি গড়েন মুশফিক। তাইজুল ফেরার পর বাকি দুই উইকেটে ২০ রান মুশফিক একাই করেন। স্বপ্ন জাগিয়েও সঙ্গীর অভাবে ক্যারিয়ারের চতুর্থ দ্বিশতক পেলেন না মিস্টার ডিপেন্ডেবল। ১৭৫ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিক দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৫টি ১৫০ বা তার বেশি রানের ইনিংসের মালিক হলেন। তিনটি মুমিনুলের, আশরাফুল ও তামিমের দুটি করে। বাংলাদেশের ইনিংস টিকেছে মোট ৫৫৬ মিনিট। এর মধ্যে মুশফিক ক্রিজে ছিলেন ৫২৬ মিনিট। লিটন ফেরার পর বাংলাদেশের শেষ ৫ উইকেট পড়ে ৬৯ রানে।
লঙ্কান ইনিংসের শুরুতে আকাশ কালো করে মেঘ আসে। পেসারদের জন্য আদর্শ কন্ডিশন। ওই সময় খালেদ আহমেদও বেশ কিছু ভালো ডেলিভারি দেন। ওশাদা ফার্নান্দোকে বিট করেন দুবার। তবে মেঘের অল্প দেখা দেওয়ার মতোই বাংলাদেশ পেসারদের ভালো সময় ছিল অল্পক্ষণ। দুই ওপেনার সহজেই রান তুলছিলেন এবাদত ও খালেদের বলে। তাই মাত্র অষ্টম ওভারেই স্পিন টানতে হলো। সাকিবের পরে একে একে মোসাদ্দেক ও তাইজুল এসেও সুবিধা করতে পারলেন না। ১৩ ওভারে ৫০, ২৫ ওভারে ৯০ করে অনায়াসে এগোচ্ছিল শ্রীলঙ্কা। এবাদত ঠিক সেই সময়ই আঘাত হানেন। ৫৭ রান করা ওশাদাকে অফস্টাম্পের বাইরের বলে সিøপে শান্তর দারুণ ক্যাচে পরিণত করেন। ওপেনিং জুটি ভাঙার সঙ্গে পরের ওভারেই আরও একটি উইকেট পেতে পারত বাংলাদেশ। তাইজুলের বলে দিমুথ করুনারতেœ ৩৭ রানে শর্ট লেগে ক্যাচ দিলেও তা মিস করেন মাহমুদুল হাসান জয়। এই জীবন পেয়ে দিন শেষে করুনারতেœ ৭০ রানে অপরাজিত। সাকিবের হাত ধরেই দিন শেষের দুই ওভার আগে দ্বিতীয় সাফল্য আসে। ১১ রানে কুশল মেন্ডিসকে এলবিডব্লিউ করেন সাকিব। এ উইকেট না হলে দিনটি আরও হতাশার হতো বাংলাদেশের জন্য।
দিন শুরুর ৩০ মিনিটে পিচের ময়েশ্চারের সুযোগ দারুণ ভাবে কাজে লাগিয়েছে শ্রীলঙ্কা। আজ বাংলাদেশ পেসারদেরও মাথা খাটিয়ে সুবিধা আদায় করতে হবে। নয়ত লিড নেওয়ার পরিকল্পনাটাই ভেস্তে যাবে।