আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী নতুন রাজনৈতিক দলগুলোকে সুযোগ দিতে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নিবন্ধন পেতে আগ্রহী দলকে আবেদনের জন্য চার মাস সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৯ আগস্ট পর্যন্ত এ আবেদন করা যাবে। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকারের সই করা এ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৯০(ক)-এর অধীন নিবন্ধন করতে ইচ্ছুক রাজনৈতিক দলগুলোকে আগামী ২৯ আগস্টের মধ্যে আবেদন করতে হবে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮-এ উল্লিখিত শর্তাবলি পূরণে সক্ষম রাজনৈতিক দলগুলোকে বিধিমালায় সংযোজিত ফরম-১ নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত নির্দেশিকা মোতাবেক পূরণ করতে হবে। এরপর ওই দলের স্বীয় লেটারহেড প্যাডে দরখাস্ত করতে হবে। আবেদনপত্রে যেসব দলিলাদি জমা দিতে হবে গণবিজ্ঞপ্তিতে তাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের গঠনতন্ত্র, দলের নির্বাচনী ইশতেহার (যদি থাকে), দলের বিধিমালা (যদি থাকে), দলের লোগো এবং পতাকার ছবি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি বা সমমানের কমিটির সব সদস্যের পদবিসহ নামের তালিকা, দলের নামে রক্ষিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও ব্যাংকের নাম এবং ওই অ্যাকাউন্টের সর্বশেষ স্থিতি, তহবিলের উৎসের বিবরণ, নিবন্ধনের দরখাস্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুকূলে প্রদত্ত ক্ষমতাপত্র, নিবন্ধন ফি বাবদ সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বরাবর জমাকৃত অফেরতযোগ্য টাকার ট্রেজারি চালানের কপি সংযুক্ত করতে হবে।
এতে আরও বলা হয়, একই সঙ্গে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিল করার তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যেকোনো একটিতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসন লাভের সমর্থনে প্রামাণিক দলিল জমা দিতে হবে। অথবা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিল করার তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যেকোনো একটিতে ওই দলের নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত ভোটের শতকরা পাঁচ ভাগ ভোট লাভের সমর্থনে কমিশন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্র্তৃক ইস্যুকৃত প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। এ ছাড়া দলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় দপ্তর, অন্তত এক-তৃতীয়াংশ প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর জেলা দপ্তর এবং অন্তত ১০০টি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন থানায় কার্যকর দপ্তর এবং প্রতি উপজেলায় বা থানায় অন্তত ২০০ ভোটার সদস্য হিসেবে দলের তালিকাভুক্ত থাকার সমর্থনে প্রামাণিক দলিল দাখিল করতে হবে।
ইসি কর্মকর্তা জানান, ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর দল নিবন্ধনের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল ইসি। এতে নিবন্ধন পেতে আবেদন করেছিল ৭৬টি রাজনৈতিক দল। কে এম নুরুল হুদা কমিশন সেই সময় বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে আবেদন বাতিল করে। পরে আদালতের আদেশে নিবন্ধন পায় জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) ও বাংলাদেশ কংগ্রেস।
ইসির তথ্য মতে, এর আগে ২০১৩ সালে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করলে ৪৩টি দল আবেদন করেছিল। কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ কমিশন সে সময় বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ও সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট এ দুটি দলকে নিবন্ধন দেয়। তারও আগে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালে ড. এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন প্রথমবারের মতো দলগুলোকে নিবন্ধন দেয়। সে সময় ১১৭টি দল আবেদন করেছিল। যাচাই-বাছাইয়ে পর নিবন্ধন পায় ৩৯টি দল। সব মিলিয়ে গত ১৪ বছরে ৪৪টি দলকে নিবন্ধন দিয়েছে ইসি। এর মধ্যে শর্তপূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ও আদালতের নির্দেশে পাঁচটি দলের নিবন্ধন বাতিল করা হয়। বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৩৯টি।