চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় অপারেশন থিয়েটারে (ওটির) মা লাইলী বেগম ও তার গর্ভে থাকা নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অনুমোদনহীন অবৈধ সেই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান 'মা ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতাল'কে সিলগালা করেছে গঠিত তদন্ত কমিটি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তার (টিএইচও) নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি ভূঞাপুর বাজারের ‘মা ক্লিনিক এন্ড হাসপাতাল’ পরিদর্শন শেষে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করেন।
প্রতিষ্ঠান সিলগালাকালে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান, তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু কনসালট্যান্ট ডা. অনামিকা সাহা, মেডিকেল অফিসার ডা. নিশাত সাঈদা ও ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান জানান, অস্ত্রোপচার করার সময় রোগী মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করে সিলগালা করে দিয়েছেন। যাতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সেখানে কার্যক্রম চালাতে না পারেন। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।
এদিকে, প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে মৃত লাইলী বেগমের স্বজনরা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত প্রকাশ, গত বুধবার (২৫ মে) বিকেলে উপজেলার খানুরবাড়ি গ্রামের লাইলী বেগমের প্রসব যন্ত্রণা হলে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
পরে সেখানকার কর্মরত চিকিৎসকেরা তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ সময় হাসপাতালে থাকা শামছু নামে এক দালালের খপ্পরে পড়ে মা ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা।
তারপর ওই ক্লিনিকের সার্জারি চিকিৎসক ও ভূঞাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার এনামুল হক সোহেল ও এনেস্থেশিয়ার চিকিৎসক ডা. আল মামুন অস্ত্রোপচার শুরু করেন। একপর্যায়ে রোগী অপারেশন টেবিলেই মারা যান।
এরপর প্রসূতির মরদেহ ক্লিনিকের সামনে রেখে চিকিৎসক, নার্স ও মালিক রফিকুল ইসলাম পালিয়ে যান। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে পুলিশ।