নেদারল্যান্ডসে নিখোঁজ ২ পুলিশ সদস্য: পরিবারও ‘জানে না’ রাসেল কোথায়

ডগ স্কোয়াডের প্রশিক্ষণ নিতে নেদারল্যান্ডস গিয়ে নিখোঁজ পুলিশের দুই সদস্যের একজন কক্সবাজার জেলার। তিনি কক্সবাজার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পল্লাইন্নাকাটা এলাকার লক্ষন চন্দ্র দের ছেলে রাসেল চন্দ্র দে। তবে পরিবারও জানে না রাসেল কোথায়।

 গত ৯ মে প্রশিক্ষণের জন্য নেদারল্যান্ডসে যায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) আট সদস্যের একটি দল। কিন্তু, যথা সময়ে গত ২৪ মে অন্যান্যরা দেশে ফিরে আসলেও ফেরেননি পুলিশ সদস্য রাসেল ও শাহ আলম।

এ নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর তাদের ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরে ‘মিসিং রিপোর্ট’ করা হয়।

এ ঘটনায় তৎপর কক্সবাজার জেলা পুলিশ। কক্সবাজার সদর থানার ওসি (তদন্ত) সেলিম উদ্দিন জানান, ‘নেদারল্যান্ডসে প্রশিক্ষণে গিয়ে নিখোঁজ পুলিশের দুই সদস্যের একজন কক্সবাজার পৌরসভার। তার নাম রাসেল চন্দ্র দে। উক্ত ঘটনায় রাসেল কি সত্যি সত্যি নিখোঁজ না নিজের ইচ্ছায় নেদারল্যান্ডসে লুকিয়ে আছে তা যাচাই জানতে পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। রাসেলের বাবা লক্ষন চন্দ্র দে, মা রেবা রানী দে, স্ত্রী পম্পী রাণীসহ অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গত ৯ মে ডগ স্কোয়াডের প্রশিক্ষণ নিতে চট্টগ্রাম সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে আট সদস্যের দলটি নেদারল্যান্ডস যায়। দলে ছিলেন একজন এসআই (সশস্ত্র), একজন নায়েক এবং পাঁচজন কনস্টেবল।

কনস্টেবল রাসেল ও শাহ আলমের না ফেরার বিষয়য়ে সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (সদর) আমির জাফর স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফেরার আগের দিন ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে হোটেল থেকে বের হয়ে যান তারা। এরপর থেকে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গীরা কোনো খোঁজ দিতে পারেননি। পুলিশ সদর দপ্তর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের খোঁজ করা হচ্ছে। তারা স্বেচ্ছায় পালিয়ে গেছেন না কোথাও বিপদে পড়েছেন তা জানা যায়নি। পরিবারের সদস্যরাও তাদের ব্যাপারে জানেন না।’

এ দিকে রাসেলের বড় বোন কমলা পাল জানিয়েছেন, ‘গত ২০ মে রাসেল স্ত্রী পম্পীর সঙ্গে সবশেষ কথা বলে। স্ত্রীকে সে নানা কসমেটিকস কেনার কথা জানায়। কিন্তু তারপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। ২৫ মে পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়, প্রশিক্ষণে যাওয়া টিমের ছয় সদস্য একদিন আগে (২৪ মে) দেশে ফিরছে। তবে রাসেল নিখোঁজ’।

রাসেল চন্দ্র দে গত ২০১৬ সালে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন। ২০২১ সালের জুনে তিনি বিয়ে করেন। তার সংসারে তিন মাস বয়সী একটি সন্তানও রয়েছে।