এমপি টুকুর ‘ব্যক্তিগত সম্মেলনে’ ছেলে সভাপতি!

প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিসহ কেন্দ্র ও জেলার গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অনুপস্থিতিতে পাবনার বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে পাবনা-১ আসনের সাংসদ সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর ছেলে ও বেড়া পৌর মেয়র আসিফ শামস রঞ্জনকে সভাপতি ও প্রভাষক আবু সাঈদকে আগামী তিন বছরের জন্য সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।

তবে এ সমাবেশকে স্থানীয় সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকুর ‘ব্যক্তিগত সম্মেলন’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও জেলার নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, রবিবার (২৯ মে) বেড়া বিবি পাইলট স্কুল মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী সিটি মেয়র এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। আমন্ত্রণ পত্রে উল্লেখ করা বিশেষ অতিথি রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবীর, উদ্বোধক জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রেজাউল রহিম লাল ও প্রধান বক্তা জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্তের নাম থাকলেও কেউ সম্মেলনে উপস্থিত হননি।

আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে কেবল বিশেষ অতিথি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা ও সদস্য আব্দুল আওয়াল শামীম ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু উপস্থিত ছিলেন।

অতিথিরা সম্মেলনে যোগ না দেওয়ায় আসেননি সম্মেলনের সভাপতি ও উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওয়াজেদ আলী এবং সঞ্চালক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ দুলাল। অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ অতিথি ও নেতারা না আসায় সম্মেলন স্থগিতের কথা শোনা গেলেও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেনের পরামর্শে স্থানীয় সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকুর সমর্থকদের নিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা যায়।

এস এম কামাল হোসেন সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্যও রাখেন। পরে দ্বিতীয় অধিবেশনে বেড়া পৌর মেয়র আসিফ শামস রঞ্জনকে সভাপতি ও প্রভাষক আবু সাইদকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।

তবে এ সম্মেলনকে নজিরবিহীন, অগণতান্ত্রিক ও গঠনতন্ত্র বিরোধী আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখান করেন বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওয়াজেদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ দুলাল।

আব্দুর রশিদ দুলাল বলেন, রবিবার বেড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী দলের সম্মেলনের নামে প্রহসন হয়েছে। শামসুল হক টুকু নিজ আধিপত্য বিস্তার করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের ভুল বুঝিয়ে একতরফা সম্মেলন করে নিজের ছেলেকে সভাপতি ও অনুসারীকে সম্পাদক ঘোষণা করেছেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের মাধ্যমে কাউন্সিলর তালিকা তৈরির কথা থাকলেও এমপি গোপনে নিজের মতো করে কাউন্সিলর তালিকা করেছেন। তা উপজেলা আওয়ামী লীগের অনুমোদন কিংবা দেখানোরও প্রয়োজন মনে করেননি। বিষয়টি আমি কেন্দ্র ও জেলার নেতাদের জানিয়েছিলাম। তারা সম্মেলনের পূর্বে বিষয়টি আলোচনা করে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তা না করে, গঠনতন্ত্রকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পকেট কমিটি করা হয়েছে। আমি দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে এর বিচার চাই।

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেনের ইচ্ছায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রশ্নবিদ্ধ কাউন্সিলর তালিকায় তড়িঘড়ি করে সম্মেলন আয়োজন হচ্ছে বলে উপজেলা আওয়ামী লীগ অভিযোগ করে। শনিবার রাতেও টেলিফোনে রবিবার সকালে কাউন্সিলর তালিকা সংশোধনের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন এস এম কামাল হোসেন। কিন্তু সকালে তিনি না আসায় প্রধান অতিথি এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনও আসেননি। জেলা আওয়ামী লীগ উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সম্মেলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিলেও শামসুল হক টুকু এমপি এস এম কামাল হোসেনের পরামর্শে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের ছাড়াই সম্মেলন ও কমিটি করেছেন। এ ঘটনায় আমরা হতভম্ব। আমরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবো না। দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানাব।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে পাবনা-১ আসনের সাংসদ শামসুল হক টুকু ও রবিবারের সম্মেলনে নির্বাচিত বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আসিফ শামস রঞ্জনকে বার বার ফোন দেয়া হলেও তারা রিসিভ না করায়, বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, অসুস্থতার কারণে আমি সম্মেলনে যোগ দিতে পারিনি। একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা সম্মেলনে যোগ দিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পরামর্শ করে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে সম্মেলন হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের মতামত নিয়েই সম্মেলন হয়েছে। ব্যক্তিগত কারণে তারা উপস্থিত না হলে সম্মেলন থেমে থাকবে না।