টানা দরপতনের প্রেক্ষিতে পুঁজিবাজার নিয়ে করণীয় নির্ধারণে গত বৃহস্পতিবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। গত বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে এমন সংবাদ জানিয়ে এসইসি চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজার অনেক ভালো হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন বক্তব্যের পর গতকাল সপ্তাহের শুরুর দিন ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাজার পরিস্থিতি।
আগের সপ্তাহের দরপতনের শঙ্কা কাটিয়ে গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৯০ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। এতে করে ডিএসইর প্রধান সূচকটি বেড়েছে ১৩১ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ১ শতাংশ। শেয়ারের দরপতনের হার সর্বোচ্চ ২ শতাংশ বেঁধে দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভীতিও কমেছে। এর প্রভাবে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে।
গত দুই মাস ২০ দিনের মধ্যে গতকাল সবচেয়ে বেশি সূচক বেড়েছে। এর আগে এর চেয়ে বেশি বেড়েছিল চলতি বছরের ৯ মার্চ। সেদিন সূচক বেড়েছিল ২ দশমিক ৪১ শতাংশ।
অস্বাভাবিক আমদানি ব্যয়ের কারণে ডলার সংকটকে কেন্দ্র করে টাকার অব্যাহত অবমূল্যায়নে চলতি মাসের শুরুতে পুঁজিবাজারে ব্যাপক দরপতন দেখা দেয়। বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির প্রভাব সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে বিক্রিচাপ বেড়ে যাওয়ায় গত ৯ মে থেকে ২২ মে টানা আট কার্যদিবসে সূচকের বড় পতন দেখেছে ডিএসই। ওই আট দিনে ডিএসই সূচক ৫৫৫ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ কমে যায়।
এরপর ২৩ মে ডিএসই সূচক ১১৯ পয়েন্ট বাড়লেও পরের দুই দিন সূচক কমে। এ প্রেক্ষাপটে গত বৃহস্পতিবার থেকে শেয়ার দর কমার সর্বোচ্চ সীমা আগের দিনের ক্লোজিং প্রাইসের ২ শতাংশে বেঁধে দেওয়া হয়। তবে শেয়ার দর বাড়ার সীমা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এর আগে দরপতনে ফোর্সড সেল বন্ধে মার্জিন ঋণের সীমা বাড়িয়ে ১ অনুপাত ১ করার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
এর আগে চলতি বছরের ৯ মার্চ পুঁজিবাজারে পতন থামাতে নিম্নমুখী সার্কিট ব্রেকার ২ শতাংশ করা হয়েছিল। এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনার মধ্যে এরপর বাজার কিছুটা ভালো হলে তা ৫ শতাংশ করা হয়। এখন আবার তা ২ শতাংশে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। শেয়ারের দরপতনের সীমা কমিয়ে দেওয়ায় লেনদেন কমে যেতে পারে বলে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা অবশ্য গতকাল দেখা যায়নি। লেনদেন উল্টো বেড়েছে।
গত বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সংবাদ জানালেও সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্যোগের কথা জানাননি এসইসি চেয়ারম্যান। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়েছে বলে জানান তিনি। আর এতেই বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা গেছে, যা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূচক আরও বেড়েছে।
গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩৮২টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৪৩টি, কমেছে ২৯টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১০টির দর। গতকাল ডিএসইর খাতওয়ারি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চাঙ্গাভাবে গতকাল ডিএসইর সব খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে সেবা ও নির্মাণ খাতের। এ খাতটির বাজার মূলধন গতকাল সাড়ে ৬ শতাংশ বেড়েছে। সূচকে প্রভাববিস্তারকারী ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের দর বেড়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ। এর বাইরে তথ্যপ্রযুক্তি ৫ শতাংশ, বস্ত্র ৪ শতাংশ, ভ্রমণ ও অবকাশ ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ, বীমা ৩ দশমিক ১ শতাংশ দর বেড়েছে। এর বাইরে বড় মূলধনী কোম্পানির মধ্যে ব্যাংক শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ, কাগজ ও প্রকাশনা ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ, প্রকৌশল ১ দশমিক ৬ শতাংশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ১ দশমিক ৩ শতাংশ ও সিমেন্ট খাতের প্রায় ২ শতাংশ দরবৃদ্ধি ছিল উল্লেখযোগ্য।
গতকালের দরবৃদ্ধির ধারায় ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও প্রায় ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ৮৩৩ কোটি টাকা, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৫৩৯ কোটি টাকা।