শিক্ষাঙ্গনে অরাজকতা সৃষ্টি করলে ছাত্রদলকে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে এবং শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ছাত্রদল ক্যাম্পাসে ঢুকতে হলে তাদের চাইলে ক্ষমা চাইতে হবে।
ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রদল বা অন্য কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইলে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে ছাত্রলীগ প্রস্তুত আছে। শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতিটি যৌক্তিক দাবিদাওয়ার পাশে থেকে ছাত্রলীগ কাজ করবে।
জয় বলেন, যারা আমাদের নেত্রীকে নিয়ে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে, তাদের ক্যাম্পাসে আসার দরকার নেই। তারা ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে রাজনীতি করুক। যদি ক্যাম্পাসে আসতে চায় তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষমা না চাইলে তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিহত করবে। ছাত্রলীগও শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে তাদের প্রতিহত করবে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল হামলা করলে শিক্ষার্থীরা কি বসে থাকবে? শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিহত করেছে। ছাত্রলীগ তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ক্যাম্পাস অশান্ত করার ষড়যন্ত্র করছেন। এই ষড়যন্ত্র সফল হবে না।
ছাত্রলীগকে নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ করায় সাংবাদিকদের সমালোচনা করে জয় বলেন, আজকে সবাই আরামে আছেন তো, ঘুমাতে পারেন তো এ জন্য অনেক কিছু ভুলে গেছেন। আমাদের খারাপ দিকগুলো নিয়ে সংবাদ করলে আমরা সাধুবাদ জানাব। কিন্তু তথাকথিত সুশীল হবেন না।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ছাত্রদল ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে। এর দায়দায়িত্ব কে নেবে? আপনারা নেবেন? কিছু হলেই ছাত্রলীগের দোষ? এ ধরনের কথাবার্তা থেকে সরে এসে আপনারা সত্য তুলে ধরুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির যে সদস্যরা ছাত্রদলের পক্ষে সংবাদ করেন তাদের বলতে চাই, আপনারা সত্যকে সত্য আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলবেন। দয়া করে ছাত্রলীগকে মিথ্যা অপবাদ দেবেন না।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন। তার ওই হাতকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেকোনো মুহূর্তে যেখানেই পাবে, সেখানেই গুঁড়িয়ে দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যারাই সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে ছাত্রসমাজের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করবে, ছাত্রসমাজ তাদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত আছে। দুর্নীতিবাজ ও জঙ্গিবাদীদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার মিছিল এই ক্যাম্পাসে হবে না।
গত মঙ্গলবার ঢাবি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার সময় ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয় ছাত্রদল। এরপর গত বৃহস্পতিবার পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ পালন করতে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় দোয়েল চত্বরে ছাত্রলীগের হামলার মুখে পড়ে ছাত্রদল। সেদিন ঢাকার বাইরেও একাধিক জায়গায় ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ হয়। গত শনিবারও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ ঠেকাতে ঢাবি ক্যাম্পাসে প্রবেশ পথগুলোতে আবস্থান নেন ছাত্রলীগের বিভিন্ন হল শাখার নেতাকর্মীরা। সংগঠনটির সিনিয়র নেতারা ক্যাম্পাসের সড়কগুলোতে মোটরসাইকেল ‘শোডাউন’ দেন। প্রবেশ মুখে অবস্থান নেওয়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে ছিল লাঠিসোটা, রড, স্টাম্প। তবে গতকাল ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসের কোথাও দেখা যায়নি।
ওইদিনই ছাত্রদল ক্যাম্পাসকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ এনে এই মানববন্ধনের ডাক দিয়েছিল ছাত্রলীগ।