ওয়াসার পরিশোধিত পানিতে করোনার জীবাণু নেই

ঢাকায় পয়ঃনিষ্কাশনের ড্রেনের পানি ও কর্দমাক্ত স্থানে করোনার জীবাণু পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫৭ দশমিক ১ শতাংশ ড্রেনের পানি ও ৫৩ দশমিক ৩ শতাংশ কর্দমাক্ত স্থানে জীবাণু মিলেছে। তবে পরিশোধনের পর এসব পানিতে করোনার কোনো অস্তিত্ব মেলেনি।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) ও ঢাকা ওয়াসার করা এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর ওয়াসা ভবনে গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ওয়াসার পরিশোধিত পানিতে ভাইরাসটির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ঢাকা শহরের পুকুর ও নদীর পানিতেও মেলেনি করোনার জীবাণু। তবে ঢাকার নদী ও পুকুরের পানিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভৌত রাসায়নিক দ্রব্য, যেমন হাইড্রোজেন, তাপমাত্রা, মোট দ্রবীভূত কঠিন পদার্থ, দ্রবীভূত অক্সিজেন, তাপ ও তড়িৎ সঞ্চালনশক্তি ছিল না। অবশ্য শোধিত ও অপরিশোধিত পানিতে এসব উপাদানের পরিমাণের তারতম্য দেখা গেছে।

ঢাকা শহর এবং এর আশপাশে করোনার উপস্থিতি জানতে গত ২০২০ সালের আগস্ট থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ছয় মাস এ গবেষণা করা হয়। গবেষণায় নেতৃত্ব দেন আইসিডিডিআর,বি’র ইমেরিটাস সায়েন্টিস্ট ড. সিরাজুল ইসলাম। ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে করোনার সঙ্গে অন্যান্য কোনো ভাইরাস যাতে ওয়াসার পানিতে না থাকে সেই ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি পরামর্শ দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, এখনো কিছু কিছু পানিবাহিত রোগ আছে। ঢাকায় যেসব পুরনো পাইপলাইন ছিল, সেগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে। একটা এলাকায় যদি ২ হাজার মানুষ থাকে, সেখানে ২-৪ ইঞ্চি লাইন বসানো হয়েছে। কিন্তু পরে সেখানে ২০ হাজার লোক হয়ে যায়। এ সমস্ত এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পাইপ লাগাতে হবে। ওয়াসা যে পানি পরিশোধন করে সেটা শতভাগ নিরাপদ। কিন্তু যে পাইপলাইন দিয়ে যায়, সেগুলোতেই সমস্যা হয়ে থাকে। একই সঙ্গে জনসাধারণকেও সচেতন হতে হবে।

গবেষণার ফলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান বলেন, ওয়াসার পানিতে করোনার কোনো অস্তিত্ব আছে কি না সেটি দেখতে আইসিডিডিআর,বির সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণাটি করা হয়। আমরা নিশ্চিত হলাম ঢাকা ওয়াসার পানিতে করোনার জীবাণু নেই।

গবেষণার জন্য ঢাকা ওয়াসার নারিন্দা ও বাসাবো স্যুয়ারেজ পাম্পিং স্টেশন এবং পাগলা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে ২২টি পয়ঃনিষ্কাশন নমুনা এবং কর্দমাক্ত স্থান থেকে ২৩টি নমুনা নেওয়া হয়। এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদীর মিটফোর্ড পয়েন্ট এবং তুরাগ নদীর আবদুল্লাহপুর ব্রিজের নিচে থেকে দুটি যৌগিক পানি ও দুটি পলির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক হেলথ (আইপিএইচ) পুকুর, মিরপুর মাজার পুকুর এবং শহীদুল্লাহ হল পুকুর থেকেও মোট ছয়টি নমুনা (তিনটি জল এবং তিনটি পলির নমুনা) নেওয়া হয়।