দেশে করোনায় শনাক্তের সংখ্যা মাসে হাজারের নিচে নেমে এসেছে। গত মে মাসে শনাক্ত হয়েছে ৮১৬ জন রোগী। এটা গত ২০২০ সালের ৮ মার্চ করোনা শুরুর পর এক মাসে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন শনাক্ত। এখন পর্যন্ত মাসে সর্বনিম্ন শনাক্ত একই বছরের মার্চ মাসে, ২৫ জন।
করোনায় মৃত্যুর সংখ্যাও নেমে এসেছে এক মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। গত মে মাসে মারা গেছে চারজন। এর আগে আর কখনোই এক মাসে এত কম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। গত এপ্রিলেও দ্বিতীয় সর্বনিম্ন মৃত্যুর রেকর্ড হয়। সে মাসে মারা যায় পাঁচজন। এ দুই মাস ছাড়া আর কোনো মাসেই মৃত্যুর সংখ্যা ৮৫ জনের কম ছিল না।
এ পর্যন্ত এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় করোনার ডেল্টা ভেরিয়েন্টের সময় ২০২১ সালের জুলাই মাসে ৬ হাজার ১৮২ জনের। সে মাসেই সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৩৬ হাজার ২২৬ জন করোনা রোগী শনাক্তের রেকর্ড হয়।
এ বছর এপ্রিলে সারা দেশে ১ হাজার ১১৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। সে হিসাবে মে মাসে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে ২৯৮ জন বা ২৭ শতাংশ। গত এপ্রিলে করোনায় মারা যায় পাঁচজন। গত মে মাসে তার চেয়ে একজন বা ২০ শতাংশ মৃত্যু কম হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো কভিড-১৯ তথ্যসূত্র বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। রোগীদের মধ্যে ঢাকা মহানগর ও জেলার ২৪, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহের ২ জন করে ৪, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাজশাহী, নওগাঁ ও সিলেটে একজন করে শনাক্ত হয়েছে।
পরীক্ষা অনুপাতে রোগী শনাক্তের হার ছিল শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ। আগের দিন এ হার শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ ছিল। মহামারীর মধ্যে সার্বিক শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আর মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। গতকাল পর্যন্ত দেশে ১৯ লাখ ৫৩ হাজার ৫৪১ জন কভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে ২৯ হাজার ১৩১ জন। গত মে মাসে যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, তারা সবাই করোনাভাইরাসের টিকা পেয়েছিলেন। তাদের তিনজন দুই ডোজ এবং একজন শুধু প্রথম ডোজ পেয়েছিলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৮ মার্চ থেকে সে বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫১০ ও মারা গেছে ৭ হাজার ৫৫৯ জন। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল তার আগের ১০ মাসের দ্বিগুণ, ১০ লাখ ৭২ হাজার ২৯ ও মারা গেছে প্রায় তিন গুণ, ২০ হাজার ৫১৩ জন। আর সর্বশেষ গত পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) শনাক্ত হয়েছে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৯৬৮ ও মারা গেছে ১ হাজার ৫৯ জন।