আলোকচিত্র সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হওয়া তিন মামলার কার্যক্রমে দুই মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। এসব মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচারিক আদালতের সিদ্ধান্ত বাতিল চেয়ে কাজলের করা আপিলের শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিন ও মো. আতোয়ার রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ স্থগিতাদেশ দেয়।
একই আপিলের ওপর শুনানির জন্য আগামী ২৮ জুলাই দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। তিন মামলায় অভিযোগ গঠনের পর ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।
রাজধানীর তিন থানায় করা তিন মামলায় গত বছরের ৮ নভেম্বর ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল কাজলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। পরে অভিযোগ গঠনের এ আদেশ বাতিল চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেন কাজল। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল এ স্থগিতাদেশ আসে। আদালতে কাজলের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ও রিপন বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পি।
ব্যারিস্টার রিপন বড়ুয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিনটি মামলায় অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্ত বাতিল চেয়ে আপিল করা হয়। হাইকোর্ট বিচার কার্যক্রমের ওপর দুই মাসের স্থগিতাদেশ দিয়ে আপিল শুনানির জন্য তারিখ ধার্য করেছেন। সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে থাকা এই মামলাগুলোর কার্যক্রম এখন স্থগিত থাকবে।’
নরসিংদী যুব মহিলা লীগের নেত্রী (পরে বহিষ্কৃত) শামীমা নূর পাপিয়ার হোটেল ওয়েস্টিনকেন্দ্রিক কারবারে জড়িত থাকাদের নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ২০২০ সালের ৯ মার্চ রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় শফিকুল ইসলাম কাজলসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্য। পরদিন ১০ ও ১১ মার্চ হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানায় সাংবাদিক কাজলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরও দুটি মামলা করেন যুব মহিলা লীগের দুজন নেত্রী। প্রায় দুই মাস ‘নিখোঁজ’ থাকার পর ওই বছরের ২ মে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত থেকে কাজলকে আটক করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। পরে ২৩ জুন তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঢাকার সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হাজির করা হয়।
হাইকোর্টের আদেশে তিন মামলায় জামিনে রয়েছেন কাজল। সাত মাস কারাগারে থাকার পর ২০২০ সালের ২৫ ডিসেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি। তদন্ত শেষে তিন মামলাতেই কাজলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।