ডলার সংকট ও রেকর্ড বাণিজ্য ঘাটতির মধ্যেই চলতি অর্থবছরে বড় অঙ্কের ঋণ সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭৭০ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের ঋণ সহায়তা পেয়েছে সরকার। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বাজেট ও খাদ্য সহায়তা হিসেবে এসব ঋণ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে আরও প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে এ তথ্য মিলেছে।
২০২১-২২ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি রয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এরমধ্যে বিদেশি উৎস থেকে ১ লাখ ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। লেনদেন ভারসাম্যে বড় ঘাটতি ও ডলার সংকটের কারণে ইতিমধ্যেই সরকার কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন স্থগিত রেখেছে। ফলে সরকারের উন্নয়ন ব্যয় সংশোধন হবে, বাজেট ঘাটতিও কমবে। বিদেশি ঋণ সহায়তা সরকারের বাজেট ঘাটতি মেটানোর পাশাপাশি ডলার সংকট নিরসনে সহায়তা করবে।
ইআরডি থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় উৎস থেকেও ঋণ সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রকল্প ঋণ ছাড়াও বাজেট সহায়তা ও ভ্যাকসিন বাবদ বিদেশি সহায়তা পাওয়া গেছে। তবে চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে যে পরিমাণের ঋণ সহায়তা এসেছে, আগে এত বেশি ঋণ কখনো পাওয়া যায়নি।
গত ১০ মাসে বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে ৭৭০ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের ঋণসহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪৮৫ কোটি ডলার। ইআরডির প্রতিবেদনে দেখা যায়, উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে সরকারের ১ হাজার ৩৫৯ কোটি ডলার ঋণের চুক্তি সই হয়েছে। যার মধ্যে এপ্রিল পর্যন্ত ছাড় হয়েছে ৭৭০ কোটি ৮৫ লাখ ডলার।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছর উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে মোট ৭০৫ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই হয়েছে। ওই বছরে ছাড় হয়েছে ৩৫৬ কোটি ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ হাজার ৭৯৬ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই হয়। সেই বছর ৩৬২ কোটি ডলার ছাড় হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছর ঋণচুক্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৮৯ ডলারের, অর্থ ছাড় হয়েছে ৬৩৬ কোটি ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট ঋণচুক্তি সই হয় ৯৯১ কোটি ডলারের, আর ছাড় হয় ৬২৬ কোটি ডলার।
উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণ দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এপ্রিল পর্যন্ত এ সংস্থার কাছ থেকে এসেছে ১৯৮ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এডিবি দিয়েছে মাত্র ৭৭ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। বাজেট সহায়তায় এরপরই রয়েছে জাপানের অবস্থান। এ দেশ থেকে এসেছে ১৭০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আগের বছর একই সময় এই দেশ থেকে এসেছিল ১২৯ কোটি ডলার। দেশের বাজেট সহায়তায় অন্যতম অংশীদার বিশ্বব্যাংক। এ সংস্থার কাছ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ঋণ সহায়তা এসেছে ১১৫ কোটি ৯২ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এ সংস্থার ঋণ ছিল ১০৭ কোটি ডলার। আলোচিত সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে এসেছে ১১৮ কোটি ১১ লাখ ডলার।
এদিকে বিদেশি ঋণপ্রাপ্তির পাশাপাশি এর আসল ও সুদ পরিশোধও বাড়ছে। চলতি জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে ঋণ পরিশোধ হয়েছে ১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।