এক মাসের ব্যবধানে আবার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি অ্যাসোসিয়েশন। এবার লিটারে ২৫ টাকা বাড়াতে চায় তারা। তারা গত বুধবার এই প্রস্তাব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্যমন্ত্রী সয়াবিনের দাম কমানোর আভাস দিয়েছেন।
১৫ দিন পরপর মূল্য সমন্বয়ের অংশ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মিলমালিকরা বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে মন্ত্রণালয়ে যায়। বাণিজ্য সচিবের কাছে দেওয়া আবেদনে ৬ জুন থেকে নতুন দামে তেল বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, গত মে মাসে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের আমদানি মূল্যসহ অন্যান্য ব্যয় বিশ্লেষণ করে দাম পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
এর আগে সয়াবিন তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে গত ৫ মে, কার্যকর হয় ৭ মে থেকে।
ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রস্তাবে প্রায় ২৫ টাকা বাড়ানো হলে খুচরা প্রতি লিটারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম পড়বে প্রায় ২২৩ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৯৮ টাকা লিটার। বোতলজাত সয়াবিনের লিটার পাইকারিতে (মিল গেটে) বিক্রি হবে প্রায় ২১৩ টাকায়। নতুন করে লিটারে ২৫ টাকা বাড়ানো হলে এক মাসের ব্যবধানে দুই দফায় বোতলাজত সয়াবিন তেলের লিটারে দাম বাড়বে ৬৩ টাকা।
এর আগে বোতলজাত সয়াবিনের দাম লিটারে বাড়ানো হয় ৩৮ টাকা। খোলা সয়াবিনের লিটারে ৪৪ টাকা ও পাম তেলের দাম লিটারে ৪২ টাকা বাড়ানো হয়। বোতলজাত সয়াবিনের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও এবার খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেননি মিলমালিকরা।
পরিশোধন খরচ, মুনাফা, বিপণন, প্রশাসনিক ব্যয়, ডিলার কমিশন ও খুচরা বিক্রেতার মুনাফাসহ হিসাব করে ২২২ দশমিক ৭৪ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।
ট্যারিফ কমিশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া আবেদনে সংগঠনটির সচিব মো. নুরুল ইসলাম মোল্লা স্বাক্ষরিত আবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫ মে ভোজ্য তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়। প্রতি ১৫ দিন পরপর মূল্য সমন্বয় করতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আছে। সে জন্য নতুন দাম ধার্য করার জন্য ভোজ্য তেলের খরচের তালিকাসহ অন্যান্য কাগজপত্র পাঠানো হলো।
এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ দেশ রূপান্তরকে বলেন, মে মাসের তথ্য সংগ্রহ ও হিসাবনিকাশ করে আগামী সপ্তাহে বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মিলমালিকরা ৬ জুন থেকে দাম বাড়াতে চান কিনা জানতে চাইলে সিনিয়র সচিব বলেন, রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন যেদিন আবেদন করবে। সেদিন থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানো যাবে। আইনে এমনই আছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এবং মালয়েশিয়ায় শ্রমিকের অভাবে পাম তেল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের ওপর চাপ বাড়ে। গত ২৫ মে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে প্রতি টন ১ হাজার ৯০৫ ডলারে ওঠে। দেশের বাজারে পরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চলতি বছরের ১৬ মার্চ সরকার আমদানি পর্যায়ে ১৫ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ করেছে। ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার পরও দেশের বাজারে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়।
গত ৭ মে থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারে ৩৮ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল লিটারে ৪৪ টাকা ও পাম তেলের লিটারে ৪২ টাকা দাম বাড়ে। দাম বাড়িয়েও বাজার স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত মাঠে নামে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এরপরই গুদামে মজুদ করা সয়াবিন ও পাম তেল বেরিয়ে আসতে শুরু করে। এখন পর্যন্ত সারা দেশে ১১ লাখ লিটারের বেশি তেল জব্দ করা হয়েছে।
দাম কমানোর আভাস: গতকাল সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘আগামী ৫-৬ দিনের মধ্যে আমরা ভোজ্য তেলের মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বসব। আমাদের কাছে খবর আছে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমতির দিকে। পাম অয়েলের দাম ইতিমধ্যে কমেছে। সয়াবিন তেলের দাম কমতির দিকে। এখন আমরা যে দামটা নির্ধারণ করব সেটা মে মাসের আমদানি খরচের ওপর ভিত্তি করে হবে।’