গাজীপুরের শ্রীপুরে সুদের টাকা না দেওয়ায় মোফাজ্জল হোসেন (৩৪) নামে এক রিকশাচালককে শেকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার বিকেলে তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের ওই দৃশ্যের একটি ভিডিও ক্লিপ ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ওইদিন রাতেই নির্যাতনে জড়িত অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রিকশাচালক মোফাজ্জলকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠা হাবিজুল মোড়ল টেপিরবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তাকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও তার সহযোগী তাইজ উদ্দীনকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার মোফাজ্জল হোসেন টেপিরবাড়ি গ্রামের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। একই গ্রামের হাবিজুল মোড়লের কাছ থেকে তিনি আড়াই হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ে সুদসহ টাকা পরিশোধ না করায় মোফাজ্জলের পায়ে শিকল পরিয়ে নির্যাতন করে হাবিজুল ও তাইজ। ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, শিকলে বাঁধা মোফাজ্জলের ওপর কয়েকজন নির্যাতন চালাচ্ছে। আর বেশ কিছু মানুষ তাদের ঘিরে রেখেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী টেপিরবাড়ি গ্রামের এক বাসিন্দা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাবিজুল মোড়লের কাছ থেকে মোফাজ্জল আড়াই হাজার টাকা সুদে ধার নেয় বেশ কিছুদিন আগে। এর মধ্যে নিয়মিত সুদ দিয়ে আসছিল মোফাজ্জল। কিন্তু গত দুই-তিন মাস ধরে আয়-রোজগার খারাপ হওয়াতে সুদ চালাতে পারছিল না সে। সুদের জন্য চাপ দিচ্ছিল হাবিজুল। পরে বুধবার তাকে দেখতে পেয়ে টাকার জন্য শিকলে বেঁধে রাখে। সাধারণ মানুষ অনেকেই সেখানে উপস্থিত থাকলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনি। পরে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে এলে সবাই পালিয়ে যায়।’
নির্যাতনের শিকার মোফাজ্জল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আড়াই হাজার টাকা সুদে ধার নিছিলাম। প্রতি মাসে পাঁচশ টাকা করে সুদ চালালেও হঠাৎ করে আয়-রোজগার কমে যাওয়াতে সুদের হারমতো টাকা দিতে পারছিলাম না। সুদের টাকার জন্য আমাকে শিকল দিয়ে মানুষের সামনেই বেঁধে রাখে। এ সময় নির্যাতনও চালানো হয়।’
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘শিকলে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে একজনকে আটকের পর গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আমরা প্রধান অভিযুক্তকে ধরতে চেষ্টা করছি।’