সাড়া জাগানো পরিবেশ বন্ধু ও শিক্ষাকর্মী এখন রিসাইকেল করছেন বাজারের নিত্য আবর্জনা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া বাজারে প্রতিদিনই এক সুদর্শন তরুণকে বাজারের আবর্জনা, মাছ কাটার পর উচ্ছিষ্ট নাড়িভুঁড়ি, মুরগি কাটার নাড়িভুঁড়ি বালতিতে বালতিতে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। সবাই বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে থাকে।
এ তরুণ আর কেউ নন, প্রতিদিন সকাল থেকে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে বই পড়ানো ও গাছ লাগানো মাহমুদুল ইসলাম মামুন। বিনে পয়সার আলোর ফেরিওয়ালা নামে সবাই তাকে চেনে।
তেঁতুলিয়া উপজেলার আজিজনগর গ্রামের মৃত আজহারুল ইসলাম ও মাহমুদা বেগমের দ্বিতীয় সন্তান মাহমুদুল ইসলাম মামুন। শৈশব থেকেই প্রকৃতিপ্রেমী মামুন অনেক গাছ লাগিয়েছেন। গাছ লাগানোর পাশাপাশি বইও পড়িয়ে চলেছেন। তার সাইকেলের ঝুড়িতে থাকে প্রচুর বই। শিশু কিশোর থেকে যে কোনো বয়সের মানুষ বই পড়ে ফেরৎ দিলেই তাদের হাতে পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন গাছের চারা।
মামুন বাড়িতে হাঁস-মুরগির খামার করে যা আয় করেন তা দিয়েই গাছের চারা ও বই কেনার খরচা বের করেন। তিনি নিজেও চারা তৈরি করেন। গাছ লাগানো ও বই পড়ানোর পাশাপাশি তিনি পলিথিন ও প্লাস্টিক প্রতিরোধ এবং পাখি শিকার বন্ধেও নিয়মিত কাজ করেন। কওমি মাদ্রাসায় তিনি ‘পরিবেশ’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধকে জানো’ বিষয়ে প্রায়ই স্বেচ্ছায় ক্লাস নেন। গ্রামে গ্রামে পাঠের আসরে পরিবেশ বিষয়েও নিয়মিত আলোচনা করেন।
এত কাজ স্বেচ্ছায় করেও তিনি বাজারের আবর্জনা কেন নিতে আসেন?Ñ এমন প্রশ্নের জবাবে মামুন বলেন, শৈশব থেকে গাছ লাগাতে লাগাতে ও পড়িয়ে বেরিয়ে আমার জীবনটাই এমন হয়ে গেছে। দুষণ, উষ্ণায়নের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন যখন পৃথিবীকে মারাত্মক হুমকিতে ফেলে দিচ্ছে তখন আমি বসে থাকতে পারি না। বাজারের আবর্জনা, মাছ কাটার নাড়িভুড়ি, মুরগি কাটা বা যে কোনো উচ্ছিষ্টাংশ পচে মিথেন গ্যাস হয়ে উষ্ণায়নে হাওয়া দেয়। তাই এসব রিসাইকেল জরুরি। শুধু নিজে এসব করছি না, মানুষকে বোঝাচ্ছিও।
বাজারের মাছ কাটা নান্নুমিয়া বলেন, এগুলো ফেলার জায়গা ছিল না। তাই নদীতে ফেলতাম। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়তো। এখন মামুন এসে প্রতিদিন বালতিতে করে নিয়ে যায়।
মুরগি কাটা রতন বলেন, মামুন ভাই নিজেই এসব নাড়িভুড়ি নিয়ে যায়। আমাদের বুঝায়, এসব নদীতে ফেলিও না, পরিবেশ দূষণ হয়।
মামুনের মা মাহমুদা বেগম বলেন, আমার ছেলেটা শৈশব থেকে গাছ লাগিয়ে, বই পড়িয়ে ও পরিবেশ বাঁচাতে নানা কাজ করে যাচ্ছে।