চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মী শফিউল ইসলাম (২২)। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাগরৌহা গ্রামে। সেখানে চলছে শোকের মাতম। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।
নিখোঁজ শফিউল ইসলাম কুমিরা ফায়ার স্টেশনে ফায়ার ফাইটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দায়িত্ব পালনে সেখানে ছুটে যান।
উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী স্টেশন অফিসার জালাল উদ্দিন বলেন, সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনে কুমিরা ফায়ার স্টেশন কর্মীদের সঙ্গে শফিউল ইসলামও অংশ নেন। পরে অবস্থা আরো বেগতিক হলে ফায়ার সার্ভিসের ২৫ ইউনিট উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। এ ঘটনায় ৪১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, এ ছাড়া শতাধিক দগ্ধ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত শফিউল ইসলাম নিখোঁজ রয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, নিখোঁজের খবর পেয়ে শফিউলের বাড়িতে খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য আমরা গিয়েছিলাম। তার পারিবারিক অবস্থা বেশি ভালো না। শফিউল নিখোঁজে তার পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তারা এ নিখোঁজের খবর শোনার পর ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের হেড কোয়ার্টার, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও সীতাকুণ্ডে শফিউলকে খোঁজার জন্য সেখানে ছুটে গেছেন তার পরিবারের লোকজন।
নিখোঁজ শফিউল ইসলামের বাবা আব্দুল মান্নান ফোনে জানান, ছেলের সন্ধানে তিনি বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা হেড কোয়ার্টার অফিসে অবস্থান করছেন। পরিবারের দুই সন্তানের মধ্যে শফিউল ইসলাম বড় ছিলেন। তিনি একমাত্র উপার্জনের উৎস। গত বছর শফিউল ইসলাম বিয়ে করেছেন। বর্তমানে তার স্ত্রী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তিনি আরো জানান, এ সময় যদি শফিউলের কোনো কিছু হয়ে যায় তাহলে আমরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে যাব। আমি একজন তাঁত শ্রমিক। বর্তমানে নানা অসুস্থতায় ভুগছি।
সোমবার সকালে নিখোঁজ ফায়ার ফাইটার কর্মী শফিউল ইসলামের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাগরৌহা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, তার পরিবারের অন্য সদস্যদের আহাজারি ও শোকের মাতম চলছে। তার শোকে পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।