নরসিংদীর মনোহরদীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে রাকিব হোসেন (২১) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
সোমবার রাতে উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর পূর্বপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার ভোরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত রাকিব হোসেন উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর পূর্বপাড়া এলাকার সিরাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি প্রাণ কোম্পানীতে গাড়ি চালাতেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- একই এলাকার মৃত শাহজাহান মিয়ার ছেলে সাইফুল (২০), তার মা নাসিমা (৪০) ও খালা তাসলিমা বেগম (৩৮)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রাকিবের ছোট বোন ও সাইফুলের খালাতো বোন তাদের বাড়ির পাশের মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেন।
গত রবিবার মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে দুষ্টুমি করে একে-অপরের গায়ে চুলকানি পাতা(চুচরাপাতা) লাগিয়ে দেন।
পরে সাইফুল তার মা ও খালাকে নিয়ে রাকিবদের বাড়িতে যায়। এ নিয়ে দুই পরিবারের মাঝে তর্কবিতর্ক হয়।
এরই জের ধরে সোমবার রাত ১০টায় সাইফুল তার মা ও খালাকে নিয়ে রাকিবদের দোকানে আসেন।
এ সময় তারা দোকানে বসে থাকা রাকিবের বাবা সিরাজ উদ্দিনের সাথে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। হৈ চৈ শুনে রাকিব ও তার চাচাতো বোন পাপিয়া বাড়ি থেকে দৌড়ে আসেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাইফুল সিরাজ মিয়াকে মারতে গেলে রাকিব ও পাপিয়া তাতে বাধা দেন।
পরে সাইফুল হাতে থাকা ছুরি দিয়ে পাপিয়াকে আঘাত করেন। রাকিব বাধা দিতে গেলে তার বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করেন।
এরপর সিরাজ মিয়া সাইফুলকে আটকাতে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে মনোহরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাকিব ও তার বাবাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
ঢাকা নেয়ার পথেই রাকিব মারা যান। সিরাজ মিয়া গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পাপিয়া মনোহরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে আছেন।
পরে রাতেই রাকিবের মা রেজু খাঁ বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় তিনজনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মঙ্গলবার ভোরে সাইফুলের আশপাশের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাইফুল, তার মা ও খালাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মনোহরদী থানার ওসি (তদন্ত) জহিরুল আলম বলেন, নিহতের মরদেহের সুরতাল করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আর গ্রেপ্তারকৃতদের দুপুরে আদালতে পাঠানো হবে।