অর্থবছরের ১১ মাস

লক্ষ্যমাত্রার ৩৫ শতাংশ ব্যাংকঋণ সরকারের

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ২৬ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা নিট ঋণ নিয়েছে সরকার। যা অর্থবছরের পুরো সময়ের জন্য সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৩৪ শতাংশ ৫৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে গত ৩০ মে পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ট্রেজারি বিল ও বন্ড নিলামের মাধ্যমে সরকার ঋণ নিয়েছে ৩৪ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। এ সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে আমানত এবং ঋণবাবদ ৫ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। ফলে আলোচিত ১১ মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সরকারের নিট ব্যাংক ঋণ দাঁড়ায় ২৯ হাজার ১০৭ কোটি টাকা।

এ টাকা থেকে আবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পুরনো ঋণ শোধ করেছে সরকার। আলোচিত ১১ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া ঋণ কমেছে ২ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা। ফলে অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়ায় ২৬ হাজার ৪৫০ কোটি ১২ লাখ টাকা। তবে গত অর্থবছরের এ সময়ে সরকারের ব্যাংক ঋণ আরও কম ছিল। গত ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে সরকারের নিট ব্যাংক ঋণ ছিল ২১ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত সরকারের ব্যাংক ঋণ বেড়েছে ২০ শতাংশ বা ৫ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা।

২০২০-২১ অর্থবছরের মূল বাজেটে ঘাটতি অর্থায়নের জন্য ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ছিল। তবে সঞ্চয়পত্র থেকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ঋণ আসায় সংশোধিত বাজেটে ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৭৯ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা করা হয়। কিন্তু ঋণ অনেক কম হওয়ায় চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকায় নামিয়ে আনে সরকার।

গত অর্থবছরও করোনা মহামারীর কারণে সামগ্রিক উন্নয়ন কাজে ধীরগতি ছিল। তাছাড়া মুনাফার হার বেশি থাকায় সরকারের লক্ষ্যের বেশি ঋণ এসেছিল সঞ্চয়পত্র থেকে। এ কারণে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া কমিয়েছিল সরকার।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল সরকার। মূল বাজেটে এ খাত থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা ধার করার লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। বিক্রি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সংশোধিত বাজটে সেই লক্ষ্য বাড়িয়ে ৩০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা করা হলেও তার অনেক বেশি ঋণ আসে এ খাত থেকে। তবে গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে সরকার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে মুনাফার হার ধাপে ধাপে কমিয়ে আনে। এতে চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে যায়। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে ১৭ হাজার ৫১৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা নিট ঋণ নিয়েছে সরকার। যা এ খাতের ঋণের লক্ষ্যমাত্রার ৫৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের বাজেটে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়বে বলে আভাস পাওয়া গেছে। এ লক্ষ্যমাত্রা বেড়ে প্রথমবারের মতো ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে।