স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিশে^র বিভিন্ন দেশ ও আঞ্চলিক জোটের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এমন বাস্তবতায় অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধার সমস্যাগুলো কাটিয়ে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক একীভূতকরণের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অংশ হিসেবে সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি (আরটিএ) স্বাক্ষরের একটি নির্দেশিকা অনুমোদন পেয়েছে মন্ত্রিসভায়। সম্প্রতি এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যমান বাজার সুবিধা ধরে রাখা এবং নতুন বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনে নেওয়া কর্মসূচির পরিপূরক হিসেবে আরটিএ স্বাক্ষর একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ফলে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা সংকুচিত হতে পারে। তাই সহজে টেকসই গ্র্যাজুয়েশনের লক্ষ্যে বৈশি^ক ও আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের পথে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে। বর্তমান বৈশি^ক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সংগতি রেখে বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক এবং আঞ্চলিক উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের জন্য আরটিএ নীতিমালা তৈরি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত আরটিএ নীতি অন্যান্য অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর মধ্যে পণ্য ও পরিষেবার অবাধ চলাচলকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আলোচনা, স্বাক্ষর এবং বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রদান করবে।
একই ভাবে নীতি কাঠামোটি সীমিত সংখ্যক রপ্তানি পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পণ্য বহুমুখীকরণ, বাজার সম্প্রসারণ এবং অভ্যন্তরীণ পণ্য ও সেবা খাত বিস্তৃত করবে। বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক একীভূতকরণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতি বিনিয়োগ এবং জনকল্যাণে অবদান রাখবে।
আরটিএ নীতির উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে আরটিএ’র সম্ভাব্য অংশীদারদের নির্দেশিকা শনাক্তকরণ এবং অগ্রাধিকার, আলোচনার জন্য আরটিএ কভারেজ নির্ধারণ, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং কর্তৃত্ব, আলোচনার কৌশল এবং চুক্তি সই করার জন্য অভ্যন্তরীণ পদ্ধতি। কর্মকর্তারা বলছেন, আরটিএ নীতির অধীনে প্রতিবেশী দেশ ও বাণিজ্য জোট, ভৌগোলিক নৈকট্য ও সংযোগ, কূটনৈতিক সম্পর্ক, ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং কৌশলগত অংশীদার দেশগুলো অগ্রাধিকার পাবে।
আরটিএ নীতিতে খাতভিত্তিক চাহিদার ভিত্তিতে সেবা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাণিজ্য চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। সেবা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে শ্রমশক্তির অবাধ চলাচলসহ অন্য সেবাসমূহ ধাপে ধাপে উদারীকরণ করা হবে। পারস্পরিক স্বার্থে মেধাস্বত্ব, শ্রম ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রতিযোগিতা নীতি, প্রযুক্তিগত সহায়তা, পণ্যমান উন্নয়ন, পণ্যের মানদ-ের পারস্পরিক স্বীকৃতি, পরিবেশ সংরক্ষণ, পণ্য ও সেবা আহরণে সরকারি ক্রয়নীতি, ই-কমার্স ও ডিজিটাল বাণিজ্য ইত্যাদির ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, মন্ত্রিসভা নীতিমালাটি অনুমোদন করেছে এবং এখন এটি ছাপানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারি প্রেসে পাঠানো হবে। এর ফলে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত নির্দেশিকা-২০১০ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। নীতিতে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী গতিপথ মসৃণ হবে এবং টেকসই এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) গ্র্যাজুয়েশনের জন্য বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের পথে সব বাধা মোকাবিলা করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।
গ্র্যাজুয়েশনের পরে বিদ্যমান অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা বজায় রাখার চেষ্টা করার পাশাপাশি সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের গতি বাড়ানোর জন্য একটি উপকরণ হতে পারে আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি (আরটিএ) নীতি।