মঞ্চ নাটক দিয়ে অভিনয়ে আসেন অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন। পরে টিভি নাটক হয়ে এখন সিনেমার দক্ষ একজন অভিনেতা তিনি। দর্শকপ্রিয়তা নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে তার অভিনয় ক্যারিয়ার। তবে অভিনয়ই নয়, তিনি একজন পরিচালকও বটে। বিজ্ঞাপন ও খণ্ড নাটক নির্মাণে অভিজ্ঞতা আছে। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছেন। গত এপ্রিল মাসেও একটি নাটক পরিচালনা করেছেন আনিসুর রহমান মিলন।
সিনেমায় অভিনয়েও ব্যস্ততা আছে তার। সম্প্রতি মেহেদী হাসানের পরিচালনায় ‘নদীর জলে শাপলা ভাসে’ নামে একটি সিনেমার কাজ শেষ করেছে। নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের ‘গাঙচিল’ এবং সাইফ চন্দনের ‘ওস্তাদ’ নামে দুটি ছবিতেও অভিনয় করছেন।
জসিম উদ্দিন জাকিরের ‘মায়া দ্য লাভ’ সিনেমায় বুবলীর বিপরীতে অভিনয় করছেন মিলন। এতে মিলন অভিনয় করছেন একজন সাইকো প্রেমিকের চরিত্রে। সিনেমার গল্পে বুবলী একজন মডেল। একটি পাক্ষিক পত্রিকা বুবলীকে নিয়ে প্রচ্ছদ করে। প্রচ্ছদের সেই ছবি দেখে প্রেমে পড়ে যান ধনী ব্যবসায়ী মিলন। মিলন বলেন, “অনেক দিন ধরে এমন একটি চরিত্রের খোঁজ করছিলাম। আমার প্রথম সিনেমা ‘দেহরক্ষী’তেও এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। দর্শক চরিত্রটি বেশ পছন্দ করেছিলেন। এখনো অনেকেই বলেন ওই চরিত্রটির কথা।”
পরিচালনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘অভিনয় তো করেই যাচ্ছি। তবে আমার স্বপ্ন ছিল যে আমি অন্তত একটি হলেও সিনেমা নির্মাণ করব। সে বিষয়েও পরিকল্পনা করছি। পাশাপাশি নাটক তো নির্মাণ করছিই।’
নাটক থেকে সিনেমায় নাম লেখানো এই অভিনেতা কথা বললেন বাংলা চলচ্চিত্রের ক্রান্তিকাল নিয়েও। তিনি বলেন, ‘আমি এক ধরনের উচ্চাশা নিয়েই চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে এসেছিলাম। চলচ্চিত্র শিল্পকে দেওয়ার মতো আমার মধ্যে অনেক কিছু আছে বলে আমি বিশ্বাস করি। কিন্তু এখানে কাজ করতে এসে অনেক ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। গল্পটা ভালো হলে সহ-শিল্পী ভালো হয় না। সহ-শিল্পী ভালো হলে বাজেট ভালো হয় না। দেখা যাচ্ছে, সব ভালো হচ্ছে কিন্তু নির্মাণশৈলীর জায়গা থেকে নির্মাণটা ভালো হচ্ছে না।’
চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেতা বলেন, ‘সবমিলিয়ে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ভালো লাগার যে বিষয় রয়েছে সেটি দশটি করলে একটি ছবিতে পাওয়া যায়। আর এ জায়গাটা যখন ভালো হবে। তখন দেখা যাবে দশটির মধ্যে আটটি ছবি ভালো হবে। আর সবসময়ই আমার কাছে মনে হয় চিত্রনাট্য হচ্ছে চলচ্চিত্রের হিরো। সেদিকে অনেক বেশি নজর দেওয়া উচিত। তারপরও অভিনয় করে যাচ্ছি।’
নাটক ও সিনেমায় সমানভাবে কাজ করা নিয়ে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্র ও নাটক দুটিতেই কাজ করছি। দুটিতে কাজ করতে তেমন সমস্যা হয় না। কেউ কেউ সিনেমায় কাজ শুরু করলে আর নাটকে কাজ করতে চান না। কিন্তু আমি তা করি না। আমি সিনেমায় কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে হাতে সময় থাকলে নাটকের কাজ করি। আমি একজন পেশাদার অভিনয়শিল্পী হিসেবে তো আর বসে থাকতে পারি না। আমি চলচ্চিত্রে বেছে বেছে কাজ করি। তাই আমার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো মুক্তির পর বেশ সাড়া পেয়েছি। চলচ্চিত্রে নিয়মিত হলেও আমি কখনো নাটক ছাড়তে পারব না। কারণ নাটক থেকেই আমার চলচ্চিত্রে আসা।’