পৃথিবীর আগ্নেয় স্বর্গ হিসেবে পরিচিত আজোরস দ্বীপপুঞ্জ। যার অবস্থান মধ্য আটলান্টিকে। ৯টি দ্বীপের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এই দ্বীপপুঞ্জ। যা পর্তুগালকে মালার মতো সংযুক্ত করে রেখেছে। এই দ্বীপপুঞ্জের অতীত আগ্নেয়গিরি ও জাদুকরী বর্তমানের ইতিহাস রয়েছে। লিখেছেন নাসরিন শওকত
পৃথিবীর স্বর্গ বলে খ্যাত এমন স্থানে ভ্রমণের জন্য আপনার দুঃসাধ্য ও বিপদসঙ্কুল যাত্রার প্রয়োজন হবে না। দেখে মনে হবে যেন রূপকথার এক স্বপ্নপুরী। পাহাড়ের সবুজ গা বেয়ে নেমে গেছে ঝরনার অবিরাম ধারা। রাস্তার দুপাশে নীল-গোলাপি ফুলের লতাগাছ। ছোট-বড় পাথর আর কালো বালির চাদরে ঢাকা সমুদ্রতীর।
এই পার্বত্য অঞ্চলে এলে আপনার মনে হতে পারে হারিয়ে যাওয়া সময়ে ফিরে গেছেন। ছোট ছোট গ্রামগুলোর বাড়ি পাথরে তৈরি। কাঁকর বিছানো পথ। পাহাড়ের পাদদেশে উর্বর সমতলে স্থানীয় কৃষকরা প্রাচীন পদ্ধতিতে ফসল চাষবাস করছেন। ঘোড়ায় টানা গাড়িতে চড়ে কোনো এক স্থানীয় বাসিন্দা পনির কারখানায় যাচ্ছেন পালিত পশুর দুধ বিক্রি করতে। এমন জাদুকরী প্রকৃতি হলো পৃথিবীর স্বর্গখ্যাত আজোরস দ্বীপপুঞ্জ। বোস্টন শহর থেকে সড়কপথে আজোরসে যেতে সময় লাগে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা।
আজোরস দ্বীপপুঞ্জ
পর্তুগালের দুটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের একটি হলো আজোরস। এটি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের ম্যাকারোনেশিয়া অঞ্চলের ৯টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত দ্বীপপুঞ্জ। এর আয়তন ২ হাজার ৩৫১ কিলোমিটার। আজোরসের প্রায় ১ হাজার ৪শ কিলোমিটার পশ্চিমে লিসবন, প্রায় ১ হাজার ৫শ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে মরক্কো ও প্রায় ১ হাজার ৯৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড।
আজোরস দ্বীপপুঞ্জের অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা হলো কৃষিকাজ, দুগ্ধজাত পণ্য তৈরি, পশুপালন, মাছ ধরা ও পর্যটন। পর্যটন এই অঞ্চলে প্রধান সেবামূলক কর্মকা-ে রূপ নিয়েছে। আজোর সরকার জনসংখ্যার একটি বড় অংশকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি চাকরি ও সেবা খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়। আজোরসের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর হলো পোন্তা দেলগাদা। আজোরিয়ান দ্বীপপুঞ্জের সংস্কৃতি, উপভাষা, খাদ্যব্যবস্থা ও ইতিহাস ঐতিহ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। কারণ এই দুর্গম দ্বীপপুঞ্জে দুই শতাব্দীর ব্যবধানে বসতি গড়ে উঠেছে।
অবস্থানগত দিক বিবেচনায় রেখে আজোর দ্বীপপুঞ্জকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি প্রধান আজোরিয়ান দ্বীপ ও একটি ছোট গুচ্ছদ্বীপও রয়েছে। পশ্চিমের দুটি দ্বীপ হলো ফ্লোরেস ও করভো। মধ্যভাগে রয়েছে চারটি দ্বীপ গ্রাসিওসা, তেরসিরা, সাও জোরগে ও পিকো গেস ফাইয়াল। এবং পূর্বে রয়েছে তিনটি দ্বীপ সাও মিগুয়েল, সান্তা মারিয়া ও ফরমিগাস রিফ। এ দ্বীপগুলোর প্রতিটিরই আয়তন ৬শ’ কিলোমিটারেরও বেশি। এই দীপগুলোর উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থান। প্রতিটি দ্বীপেরই আগ্নেয়গিরি থেকে উৎপত্তির ইতিহাস রয়েছে। তবে পূর্বাঞ্চলীয় দ্বীপ সান্তা মারিয়ার ইতিহাস কিছুটা ভিন্ন। কয়েক শতাব্দী আগে এ দ্বীপগুলোতে বসতি স্থাপন শুরু হয়। এর পর থেকে এখনো পর্যন্ত সান্তা মারিয়ায় অগ্ন্যুৎপাতের কোনো নথিভুক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মধ্যাঞ্চলের পিকো দ্বীপে রয়েছে পর্তুগালের সর্বোচ্চ পর্বতমালা পিকো (৭ হাজার ৭১৩ ফুট উচ্চতা)। পৃথিবীর উঁচু পর্বতগুলোর মধ্যে একটি পিকো।
ভূ-প্রকৃতিগত অবস্থানভেদে উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত আজোরের দ্বীপগুলোতে জলবায়ু শীতল। এই দ্বীপপুঞ্জের জলবায়ু আটলান্টিক মহাদেশের জলবাযু দ্বারা প্রভাবিত। সমুদ্র নিকটবর্তী হওয়ায় সারা বছর ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা অনেকটা শীতল থাকে। ঋতুভেদে দিনের তাপমাত্রা সাধারণত ১৬ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে। দ্বীপপুঞ্জের যে স্থানগুলোতে মানুষ বসবাস করে সেখানকার জলবায়ু কিছুটা আর্দ্র।
মনোমুগ্ধকর প্রকৃতি
আটলান্টিকের মধ্যখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা মনোমুগ্ধকর দ্বীপপুঞ্জ আজোরস। কেবল আটলান্টিকই নয় পর্তুগালের কিছু অংশকেও যুক্ত করেছে এই দ্বীপপুঞ্জ। আপাতদৃষ্টিতে এই দ্বীপপুঞ্জকে অনেক দূরের মনে হতে পারে। তবে হেঁটে ভ্রমণ করলে প্রতিটি দ্বীপের নয়নাভিরাম প্রকৃতি আপনাকে বিমোহিত করবে। দ্বীপপুঞ্জটির প্রতিটি দ্বীপের উষ্ণ জলধারা, আগ্নেগিরির খাদে গাছপালার সবুজ সমাহার, জ্বালামুখে হ্রদ এবং গরম পানির স্রোতধারা এ সবই আগ্নেয়গিরি থেকে সৃষ্টি হওয়ার প্রমাণ দেয়। তারপরও প্রতিটি দ্বীপেরই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যা পর্তুগিজের মূল ভূখন্ড থেকে প্রায় ১ হাজার মাইল দূরে অবস্থিত।
ফ্লোরেস
ফ্লোরেস হলো আজোরসের সবচেয়ে পশ্চিমের দ্বীপ। যদিও এই নামের অর্থ হলো ‘ফুল’। তবে বিশাল পানির প্রবাহ থাকায় চমৎকার এই দ্বীপটিকে ‘পান্না সবুজ’ দ্বীপও বলে। দ্বীপটি অধিকাংশ সময়ই ঘন কুয়াশায় আবৃত থাকে। অগেয়œগিরির মুখে থাকা হ্রদের পানি দেখে মনে হবে অনেক রঙের প্রলেপ। এই দ্বীপের দুটি উপদ্বীপ আছে। একটি হলো ‘লাগোয়া কমপ্রিদা’ আর এর ঠিক পাশেই ‘লাগোয়া নেগ্রা’। ওপর থেকে দেখলে মনে হবে, কেউ যেন নিখুঁত ভাবে এই উপদ্বীপ দুটিকে সাজিয়ে রেখেছে।
দুই উপদ্বীপের মাঝ দিয়ে পাহাড়ের গা বেয়ে ঝরনা বয়ে গেছে। প্রবল ধারায় বহমান ‘পোকো দো বাকালহাউ’ ঝরনাটি ৩শ’ ফুট নিচে সাঁতারের পুলে মিশেছে। এখানকার প্রাচীন গ্রাম ‘এলদেইয়া দ্য কুয়াদা’র বাড়িঘরগুলো প্রাচীন আসবাব ও বিভিন্ন রং দিয়ে সাজানো। এখানকার কটেজে যেসব পর্যটক থাকেন তারা চাইলে পেছনের দরজায় দাঁড়িয়ে ঝরনার অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।
করভো
আজোরস দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে ছোট ও নির্জন দ্বীপ হলো করভো। এই দ্বীপটিতে মাত্র ৫শ’ মানুষ বাসবাস করেন। এই দ্বীপটির দৈর্ঘ্য পাঁচ কিলোমিটার আর প্রশস্ত তিন কিলোমিটারেরও কম। ফ্লোরেস দ্বীপ থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তরে প্রাচীন আগ্নেয়গিরি থেকে সৃষ্ট এই দ্বীপটি পাখি দর্শনার্থীদের জন্য স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। কয়েক শ’ বছর ধরে জাহাজ এখানে নোঙর করত। নাবিকদের আসা-যাওয়ার ফলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে রাজধানী হোর্তা।
এছাড়াও চিত্রকর্মের জন্যও বিখ্যাত দ্বীপটি। পর্যটকরা সাধারণত দ্বীপটিতে বিশ্রাম নিয়ে থাকেন। এক কথায় বলা যায় এখানে নোঙর করা ১৬ ও ১৭ শতকের জাহাজগুলো পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়েছিল। আজোরসের মধ্যাঞ্চলে রয়েছে আরও চারটি দ্বীপ পিকো গেস ফাইয়াল, তেরসিরা, সাও জোরগে ও গ্রাসিওসা।
পিকো গেস ফাইয়াল
একটা সময়ে নাবিকরা তাদের ইয়টগুলোকে এখানে নোঙর করাতেন। অনেক খেলোয়াড় ও ক্রু পিটার ক্যাফে স্পোর্টে জাদুঘরে আসেন ১শ’ বছরেরও বেশি পুরনো এই স্থাপনা দেখতে। পিটার ক্যাফে স্পোর্টের ভেতরে সমুদ্রের নাবিকদের নানা ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন সাজানো রয়েছে। কারুকাজ করা এই জাদুঘরের নানা শেলফে তিমির দাঁত ও হাড়ে খোদাই করা নানা শিল্পকর্ম শোভা পাচ্ছে । এই নিদর্শনগুলো ১৮ শতকের শেষ সময়ের সাক্ষ্য বহন করে।
দ্বীপের পশ্চিম প্রান্তের রাস্তার দুপাশে আকাশি-নীল ফুলের লতাগাছ। এর বরাবর ফুটবলের আদলে বাড়িগুলো দ্বীপের পশ্চিম সীমানা পর্যন্ত। বর্ণিল ও সাগরের গর্জনে মুখরিত হোর্তার সম্পূর্ণ বিপরীত পরিবেশ পাওয়া যায় জনশূন্য ফাইয়াল দ্বীপে।
সমুদ্রের নিচের অগ্ন্যুৎপাত থেকে এই দ্বীপটির সৃষ্টি হয়েছিল। অগ্ন্যুৎপাতের সময় সৃষ্ট পোড়া কাঠকয়লা-কালো ছাই ও অন্য সব উপাদান মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছে বলে জনশ্রুতি আছে।
পিকো
পর্তুগালের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ পিকো। প্রায় ৮ হাজার ফুট উচ্চতা মাউন্ট পিকো’র। দ্বীপটি দেখলে মনে হবে যেন ধূসর পাথর দিয়ে মুড়ে রাখা। এ দ্বীপের গরু বা ঘোড়ার খোয়াড়ের চারপাশ আঙুরলতায় আচ্ছাদিত। যা দ্বীপের অধিবাসীদের নোনা বাতাস ও ধুলোঝড় দিয়ে রক্ষা করে।
পিকোতে রয়েছে আগ্নেয় খনিজসমৃদ্ধ উর্বর ভূমি। দ্বীপটির এই ধরনের আবহাওয়া ওয়াইন তৈরিতে সহায়ক। রাজধানী মাদালেনার ৭০ বছরের পুরনো ওয়াইন প্রস্তুত কোম্পানি কোঅপারেটিভা ভিটিভিনিকোল অবস্থিত। মচমচে ‘ভারদেলহো’ এই দ্বীপের আঙুর থেকে তৈরি জনপ্রিয় খাবার। পিকোর অবকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাথর ও কাঠ দিয়ে ১৪টি বাড়ি নির্মাণ করা হয়। যা লাভা হোমস রিসোর্ট নির্মাণ নামে পরিচিত। এই বাড়িগুলোর প্রতিটিতে অনেকগুলো জানালা রয়েছে।
সাও জরগে
ওপর থেকে সাও জরগে-কে দেখলে মনে হবে লতা ও জাপানি সিডারে ঢাকা সাপের মতো আঁকাবাঁকা এক দ্বীপ। এই নৈসর্গিক সীমানা ‘ফাজা’ গ্রামে শেষ হয়েছে। দ্বীপের উর্বর সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে ভূমিধস ও প্রাচীন লাভা প্রবাহ থেকে।
এ দ্বীপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান ‘ফাজা দে সান্তো ক্রিস্টো’। যা ছয় মাইল দীর্ঘ হাঁটার এক পথ। এই রাস্তাটি জলাধারের কারণে বিচ্ছিন্ন গ্রাম ফাজা দে সান্টো ক্রিস্টো থেকে। লতানো গাছে ছাওয়া এ দ্বীপের বাড়ির গেটগুলো। স্থানীয় বাসিন্দারা ছাদের বাগানে ইয়াম, বাঁধাকপি, পালং শাক এবং টমেটো চাষ করে। দ্বীপটির উপকূলে বিশ্রাম নিতে আসা সার্ফারদের ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে। এখানকার সুস্বাদু পনিরের বেশ সুনাম আছে।
গ্রাসিওসা
গ্রাসিওসা দ্বীপকে তুলে ধরে এমন অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। যা থেকে আগ্নেয়গিরি সম্পর্কে জানা যায়। সাপের চলার মতো আঁকাবাঁকা পথে এগিয়ে গেলেই লাভা গুহা ‘ফুর্না দো এনক্সোফ্রে’ পাওয়া যাবে। সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থেকে গুহার সৃষ্টি হয়েছে। জনশ্রুতি আছে, গুহার সিঁড়ি তৈরির জন্য স্থানীয়রা তাদের গবাদিপশুকে পানি খাওয়াতে দড়ি বেঁধে নিচে নেমে গিয়েছিল। ভেতরে থাকা হ্রদে বৃষ্টির ঠা-া পানি, মাটিতে ১৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে ফুটতে থাকা বুদবুদ ও গন্ধকের গন্ধ বাতাসকে ভারী করে তুলেছে। দ্বীপটির কারাপাচো পরিচিতি পেয়েছে স্পা গ্রাম হিসেবে। এ গ্রামের তারমাস দো কারাপাচো রিসোর্টে জিওথার্মাল শক্তি ব্যবহার করে উষ্ণ পানির পুলে থেরাপি দেওয়া হয়।
তেরসিরা
পিকোর কৃষ্ণধূসর আগ্নেয় শিলা দ্বীপটিকে রংতুলিতে আঁকা কালো ও সাদার ডোরাকাটা রূপ দিয়েছে। তেরসিরা দ্বীপটির বাড়িগুলোকে অন্যরকম সৌন্দর্য এনে দিয়েছে ক্রেওলা ক্রেয়নের ছোট ছোট তক্তা ব্যবহারের ফলে। রাজধানী আংরা দো হেরোইজমোর রাস্তায় আঁকা বর্ণিল সব ছবি। এর সবুজ জমিনের ওপর বেগুনি রঙের গির্জাগুলো অনন্য শোভা দিয়েছে। দ্বীপটির উত্তর উপকূলের ‘বিসকৈতোস’ গ্রামে আগ্নেয়গিরির উৎস রয়েছে। আর রয়েছে বিভিন্ন আকারের প্রকৃতিসৃষ্ট অসংখ্য পুল (খাল)। শহরটিতে ওয়াইন প্রস্তুতকারক পরিবারের একটি জাদুঘর রয়েছে। যেখানে শত বছরের পুরনো ওয়াইন প্রস্তুতের যন্ত্রাংশ সাজানো আছে। পর্যটকরা জাদুঘরটিতে এলে তাদের ওয়াইন দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। আজোরসের পূর্বাঞ্চলে সাও মিগুয়েল, সান্তা মারিয়া ও ফরমিগাস রিফ- এ তিনটি দ্বীপ রয়েছে।
সাও মিগুয়েল
আজোরিয়ান দ্বীপের বড় উপদ্বীপ সাও মিগুয়েল। আজোরসের রাজধানী পন্তা দেলগাদার অবস্থান এখানে। এটি প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৫ কিলোমিটার প্রশস্ত। আনারস উৎপাদনের কারণে বিশ্বের পুরনো বাণিজ্যিক গ্রিনহাউজ এবং ইউরোপের প্রাচীনতম চা বাগান বাড়ি হিসেবে দ্বীপটি পরিচিত। দ্বীপটির উপকূলে অবস্থিত ‘ভিলা ফ্রাঙ্কা দো কামপো’।
এখানে ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির মুখে থাকা আদিম উপহ্রদ লেগুন কায়কার। যা বিজ্ঞ সাঁতারুদের মনে ভীতি তৈরি করে। দ্বীপের পরিচিত স্থান হলো ফারনাস উপত্যকা। এ উপত্যকাটি আগ্নেয়গিরির অতীত ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে পর্যটকদের নানা আগ্রহ মেটায়। এখানকার পুরনো টেরা নস্ট্রা বাগান জাদুকরী পরিবেশ তৈরি করেছে।
সান্তা মারিয়া
সান্তা মারিয়া আজোরস দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। এটি কেবলমাত্র সূর্যের আলোর জন্যই নয়, সোনালি বালুর সৈকতের জন্যও বিখ্যাত। এর আকাশ ও সমুদ্রের পানি সবুজ ও নীল রঙের খেলা তৈরি করে। এ রং যেন মিরাদৌরো দ্য পেদ্রা রিজায় মিশেছে। দ্বীপটির অনেক স্থানের মধ্যে এটি পিকনিকপ্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। জ্যোৎস্না রাতে এর আঁকাবাঁকা রাস্তার সৌন্দর্য যে কোনো পর্যটককে বাকরুদ্ধ করে দিতে সক্ষম। এখানকার একটি গ্রাম হলো সাও লরেনকো। সমুদ্রের কাছেই রয়েছে স্থানীয়দের প্রিয় আরেকটি গ্রাম আঞ্জোস। এর প্রকৃতি বেশ নির্মল ও শান্ত। স্থানীয় বার দোস আঞ্জোস থেকে সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে আসেন প্রতি বছর অনেক পর্যটক।