দেখে বোঝার উপায় নেই এটি কমিউনিটি ক্লিনিক

দেখে বোঝার উপায় নেই এটি কমিউনিটি ক্লিনিক। এলাকাবাসীও জানে না এখানে কোনো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় বা এখানে কেউ দায়িত্বরত আছে। সাইনবোর্ড বা কোথাও ক্লিনিকের নামও লেখা নেই। দিনের পর দিন তালাবদ্ধই পড়ে থাকে জরাজীর্ণ ভবনটি। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের বরান্তর কমিউনিটি ক্লিনিকের চিত্র এটি। হাওরবেষ্টিত এ এলাকায় এভাবেই সেবাহীন কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনটি দাঁড়িয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। এভাবে সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী। অথচ কাগজে-কলমে এখানে তিনজন স্বাস্থ্যকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে একমাত্র নারীকর্মী ২০০৯ সালে বিয়ে হওয়ার পর থেকেই শ^শুরবাড়িতে থাকেন। মাঝেমধ্যে বাবার বাড়ি বেড়াতে এলে ক্লিনিকে গিয়ে উঁকি দেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ক্লিনিকে কমিউনিটি হেলথ সার্ভিস প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) পদে বিপ্লব কুমার উকিল, স্বাস্থ্য সহকারী পদে তুহিন চৌধুরী ও পরিবারকল্যাণ সহকারী পদে রয়েছেন তন্দ্রা চৌধুরী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তুহিন চৌধুরী ও তন্দ্রা চৌধুরী আপন ভাইবোন। তারা বরান্তর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জু চৌধুরীর ছেলেমেয়ে। আর বিপ্লব কুমার উকিলের বাড়ি মোহনগঞ্জ শহরের পাশে শিবির গ্রামে।

সিএইচসিপি মূলত ক্লিনিকটির সার্বিক দেখাশোনা করেন। স্বাস্থ্য সহকারী শিশুদের বিভিন্ন টিকা দানসহ অন্যান্য কার্যক্রম করেন। এছাড়া পরিবারকল্যাণ সহকারীর কাজ গর্ভবতীদের কাউন্সেলিং, বিভিন্ন ওষুধ বিতরণ, বাড়ি বাড়ি গিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা। অথচ তারা মাসে এক দিন ক্লিনিকই খোলেন না।

গত ৪ জুন মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা খাতুন কমিউনিটি ক্লিনিকটি পরিদর্শনে গিয়ে এটি বন্ধ পান। তালা খুলে ভেতরে ঢুকে ময়লা দুর্গন্ধ দেখতে পান। এ সময় গত ১৮ মে থেকে ক্লিনিকটি খোলা হয়নি বলে তথ্য পান। এছাড়া হাজিরা খাতায় দীর্ঘদিন কারও স্বাক্ষরও পাননি। এ নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বরান্তর বাজারের ব্যবসায়ী মামুন চৌধুরী বলেন, ‘যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় এ গ্রামের মানুষ চিকিৎসার জন্য শহরে যেতে পারে না। হাওরপাড়ের মানুষের চিকিৎসার জন্য এ কমিউনিটি ক্লিনিকটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু ক্লিনিকটি কাউকে কোনোদিন খুলতেই দেখি না। সাধারণ মানুষ জানেই না এখানে ওষুধ দেওয়া বা চিকিৎসা হয়। তাই কেউ এখন আর এ ক্লিনিকে আসে না।’

এ বিষয়ে সিএইচসিপি বিপ্লব কুমার উকিল নিয়মিত অফিসে না যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমাকে অনেক দূর থেকে গিয়ে অফিস করতে হয়। আমাকে ডেপুটেশনে ওখানে দেওয়ার সময় বলা হয়েছিল কিছু ছাড় দেওয়া হবে।’

স্বাস্থ্য সহকারী তুহিন চৌধুরী বলেন, ‘আমার কাজ বাইরে, অফিসে নয়। নিয়মিত সে কাজ করে যাচ্ছি। এর মধ্যে কিছুটা অনিয়ম হয়তো মাঝেমধ্যে হয়।’

পরিবার কল্যাণ সহকারী তন্দ্রা চৌধুরী বলেন, ‘আমার বাচ্চা হওয়ার সময় ছুটিতে ছিলাম ছয় মাস। এখন ছোট বাচ্চা নিয়ে অফিস করতে কিছুটা সমস্যা হয়। তবে সিএইচসিপি যেহেতু গাফিলতি করেন, তাই আমরাও কিছুটা করি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা খাতুন বলেন, ‘গত ৪ জুন করোনার বুস্টার ডোজ প্রদানের মতো একটা জাতীয় প্রোগ্রামে তারা ক্লিনিকটি খোলেনি। এমনকি দীর্ঘদিন না খোলার বিষয়ে প্রমাণ পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’