সাবেক এসপি (পুলিশ সুপার) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় তাদের দুই সন্তানকে শিশু আইন মেনে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশনা চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি সাহেদ নূরউদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য আজ বুধবার ধার্য করেছে।
শুনানিকালে এই মামলার বিচারকাজ বিলম্বিত হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলেছে, ‘মনে হয় কোনো একটি পক্ষ এই মামলার বিচারকাজ বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে।’ আইনজীবীদের তথ্য মতে,গত ১৬ মার্চ চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা আদালত এক আদেশে শিশু আইন মেনে বাবুল ও মিতুর সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দুই শিশুকে হাজির করতে নোটিস দেয়। দুই শিশুকে পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদসংক্রান্ত আদেশটিকে চ্যালেঞ্জ করে গত ৩০ মার্চ হাইকোর্টে আবেদন করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
গতকাল শুনানিকালে আবেদনকারী শিশির মনির এ মামলার বিচারকাজ বিলম্বিত হওয়ার প্রসঙ্গটি তোলেন। একই সঙ্গে শিশু আইন মেনে সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তা ও শিশুর দায়িত্বে থাকা পুলিশের (মেয়েশিশুর ক্ষেত্রে নারী পুলিশ ও ছেলেশিশুর ক্ষেত্রে পুরুষ পুলিশ) উপস্থিতিতে সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদে আদেশের আরজি জানান তিনি।
আদালত তখন প্রশ্ন করে, কেন এ মামলার বিচারকাজ বিলম্বিত হচ্ছে। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পি বলেন, ‘ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হয়েছে। কিন্তু বিচারকাজ এখনো হচ্ছে না। দুই সন্তানের অভিভাকত্ব নিয়ে, জিজ্ঞাসাবাদ করা নিয়েও মামলা হচ্ছে। এতে করে মামলাটি হিমঘরে পাঠানো হচ্ছে।’
আদালত তখন বলে, ‘কোনো একটি পক্ষ হয়তো আছে মামলাটি বিলম্বিত করছে। না হলে বিচারকাজ এখনো কেন শুরু হচ্ছে না। তারা (মিতুর পরিবার) বিচার চাইতে পারবে না।’
২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রামের ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে গুলি ও ছুরিকাঘাতে মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তার স্বামী বাবুল আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় বাবুল আক্তার বলেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের কারণে স্ত্রী মিতু আক্রমণের শিকার হয়েছেন। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার আনোয়ার ও মোতালেবের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে তার সোর্স হিসেবে পরিচিত মুছার নাম আসে।
ঘটনার পর বাবুল আক্তার দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে ঢাকার মেরাদিয়ায় তার শ^শুরের বাসায় ওঠেন। পরে মিতুর বাবা পুলিশের সাবেক পরিদর্শক মোশারফ হোসেন এ হত্যায় বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন। ২০১৭ সালের ২৪ জুন রাতে বাবুল আক্তারকে ঢাকার বনশ্রীর শ^শুরবাড়ি থেকে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে প্রায় ১৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত বছরের ১০ মে বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হয়। ১২ মে পিবিআই জানায়, মিতু হত্যায় বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। এর আগে মিতু হত্যায় বাবুল আক্তার যে মামলাটি করেছিলেন, পিবিআইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেই মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখাতে গত ৯ জানুয়ারি আদেশ দেয় চট্টগ্রামের একটি আদালত। পরে বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এর মধ্যে মিতুর বাবাও একটি মামলা করেন। তবে সেই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে বাবুল আক্তারের করা মামলাটি চালু রাখা হয়েছে।