গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ ও বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবিতে তিন দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ সব মহানগরে, শনিবার সব জেলা সদরে এবং সোমবার সব উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সে সময় তিনি সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে প্রাণহানির দায় নিয়ে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন।
গত সোমবার অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভার সিদ্ধান্ত জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির সভায় বলা হয়, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি যখন জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে, ঠিক সেই সময় গ্যাসের ২২ দশমিক ৭৮ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে আঘাত করল। এতে একদিকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ও গ্যাসের অতিরিক্ত মূল্য প্রত্যাহারের দাবিতে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনগুলোও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে।
তিনি বলেন, ‘সীতাকু-ের ভয়াবহ দুর্ঘটনার জন্য সরকারের অবহেলা, সমন্বয়হীনতা এবং অযোগ্যতা দায়ী। সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি, অযোগ্যতা, জবাবদিহিহীনতার কারণেই এত প্রাণ চলে গেল এবং সামগ্রিক ক্ষতি হলো। তাই এই দুর্ঘটনার জন্য সরকারকে দায় নিয়ে পদত্যাগ করা উচিত।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রকাশিত ২০২১ সালের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘুকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও জমি দখল রোধে সরকারের কার্যকর ভূমিকার ব্যর্থতার অভিযোগ উত্থাপনে উদ্বেগ প্রকাশ করছি। তাদের প্রকাশিত তথ্যে প্রমাণিত হয়েছে, বর্তমানের অনির্বাচিত আওয়ামী সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থ সংরক্ষণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।’
তারেক রহমান জন্মসূত্রে বাংলাদেশি : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাগরিকত্ব নিয়ে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যে মন্তব্য করেছেন তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারেক রহমান জন্মগতভাবে বাংলাদেশি নাগরিক এবং অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদনও করেননি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ও আওয়ামী লীগ সরকারের চক্রান্তের ফলে তিনি নির্বাসিত অবস্থায় বৈধভাবেই যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। কাদেরের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অসত্য তথ্য প্রদানের জন্য বক্তব্য প্রত্যাহার করে কাদেরের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।’
গত সোমবার রাত ৮টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অংশ নেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।