ব্যতিক্রমী রায়ে সংসারে ফিরলেন সুনামগঞ্জের ৪৫ দম্পতি

আবারও ৪৫টি পরিবারকে ভাঙনের মুখ থেকে ফিরিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করলেন সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন।

সাজার পরিবর্তে হাতে ফুল ও মিষ্টি মুখ করিয়ে ৯০ জন স্বামী ও স্ত্রীর পারিবারিক দ্বন্দ্বের মামলা নিষ্পত্তি করেন তিনি।

পারিবারিক দ্বন্দ্ব, যৌতুক কিংবা স্ত্রীর প্রতি খারাপ আচরণসহ নানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই ৪৫ দম্পতির মধ্যে মামলা চলছিল। স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকায় সন্তানেরা হয়ে পড়েছিল আশ্রয়হীন। তাই  সন্তানদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে ফিরিয়ে দিতে সাজার পরিবর্তে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন জাকির হোসেন।

আপোষ নিষ্পত্তিতে শর্ত হিসেবে পরিবারের অন্যদের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখা, স্বামী-স্ত্রীর পরষ্পরকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়া, মনোমালিন্য দেখা দিলে নিজেরা আলাপ করে শান্তিপূর্ণ সমাধান, স্ত্রীকে নির্যাতন বা যৌতুক না চাওয়ার শর্তে বুধবার দুপুরে এ সব মামলার নিষ্পত্তি করা হয়।

রায়ের উদ্দেশ্য হিসেবে আদালত বলেন, আইন-আদালত সৃষ্টি হয়েছে মানুষকে শুধু শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে, এ ধারণাকে পাল্টে দেওয়ার জন্য আজকের এ রায়। আদালত যে শুধু শাস্তিই দেন না মানুষের মধ্যে শান্তির সুবাতাস দেয়, সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে দেয় এ রায়ের মাধ্যমে মানুষ সেটা অনুধাবন করতে পারবে।

এ সব রায়ে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়া খুশি ও সন্তুষ্টি জানান ভুক্তভোগীরা।

জেলা আইনজীবী সমিতি সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ বলেন, বারবার আদালতের এরূপ উদ্যোগের ফলে স্বামী-স্ত্রী যারা পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধাংদেহী মনোভাব নিয়ে মামলা লড়ে যাচ্ছেন, তারাও শান্তির পথে আসতে উৎসাহী হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নান্টু রায় জানান, আদালতে এমন উদ্যোগ বিচারপ্রার্থী মানুষদের মনে বিচারের প্রতি বিশ্বাসযোগ্য বাড়াবে।

এর আগেও এ ধরনের ব্যতিক্রমী দুই শতাধিক রায় দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন বিচারক মো. জাকির হোসেন।