কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের হোসেনাবাদে আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের ‘নকল’ ব্যান্ডরোল ব্যবহার করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, কেউ কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশ মতো অসম্পূর্ণ ব্যান্ডরোল ব্যবহারে আপত্তি জানালেই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। কখনো কখনো শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন শ্রমিকরা। গতকাল বুধবার এসব অভিযোগেই কারখানার সামনের সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। সে সময় পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তিন শ্রমিককে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার হোসেনাবাদ গ্রামে কুষ্টিয়া-প্রাগপুর সড়কে বিড়ি কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন জ¦ালিয়ে অবরোধ করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ রুবেল (৩২), সামসুল (৩৪) ও ওয়াসিম (৩৫) নামের তিন শ্রমিককে আটক করেছে।
শ্রমিক নেতা আবুল কালাম বলেন, আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরির ম্যানেজার রাসুল উদ্দিন পলাশ দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব ফাঁকি দিতে অসম্পূর্ণ ব্যান্ডরোল ব্যবহার করতে শ্রমিকদের বাধ্য করে আসছেন। যেসব শ্রমিক ম্যানেজারের কথামতো অর্ধেক ব্যান্ডরোল ব্যবহারে রাজি হননি তাদেরই কাজ থেকে বহিষ্কার করেছেন। এ ছাড়া তাদের কথামতো কাজ না করায় কয়েকজনকে নির্যাতনও করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে কথা বলতে ম্যানেজার রাসুল উদ্দিন পলাশের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তিনি প্রতিবারই কল কেটে দেন। একাধিক বার্তা পাঠিয়েও মেলেনি কোনো সাড়া।
এদিকে আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরিতে ব্যান্ডরোল জালিয়াতির অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ কুষ্টিয়ার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সার্কেল-২-এর বি এম সাজ্জাদুল হক বলেন, ‘আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরিতে ব্যান্ডরোল জালিয়াতির অভিযোগ আমরাও পেয়েছি। নমুনাও সংগ্রহ করেছি। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৌলতপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক জাবীদ হাসান বলেন, প্রাথমিক ভাবে আমরা জানতে পেরেছি আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ কারণে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। বুধবার ঠিক কী কারণে শ্রমিকরা ফ্যাক্টরি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ করছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘রাস্তা অবরোধের সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষোভকারীরা তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। আত্মরক্ষায় পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ করে। পরে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।’ তিনি জানান, এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে জনসাধারণের চলাচলে বিঘœ ঘটানো ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।