দুদকের তদন্তে উদঘাটন

২০ কোটি টাকা ঘুষে বিচ্ছিন্ন গ্যাস সংযোগ সচল

বিল বকেয়া থাকায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় রাজধানীর কুড়িল ও ভাটারা এলাকার ১ হাজার ২৪৭ জন গ্রাহকের। এসব গ্রাহকের প্রত্যেকের কাছেই বড় অঙ্কের বিল ও জরিমানা পাওনা ছিল তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের। তারপরও তারা সেসব সংযোগ ফিরে পেয়েছেন। এজন্য বকেয়া বিল কিছুই পরিশোধ করতে হয়নি। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তারা পুনঃসংযোগ পেয়েছেন। এতে লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি টাকা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

দুদক সূত্র জানায়, তিতাসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে সংস্থা। দুদক বলছে, এমন অনিয়মে তিতাস গ্যাস কোম্পানি বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে। সম্প্রতি এ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

যাদের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তারা হলেন তিতাসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রতন চন্দ্র দে, ব্যবস্থাপক রকিব উদ্দিন সরদার (মিটারিং অ্যান্ড ভিজিল্যান্স), উপব্যবস্থাপক মো. রেজাউল করিম (রাজস্ব), উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন জাবেদ, উপব্যবস্থাপক মো. রজব আলী, জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা প্রহরী মাসুদ রানা, আবুল কালাম আজাদ, মাসুদুল হক, নিরাপত্তা প্রহরী ওয়াসিম, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সামী এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. রাকিব হোসেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ভাটারা থানায় মামলা করে তিতাস। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৮/৪০৯/৪২০/৪৪৮/১০৯ ধারায় মামলা হয়েছিল। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমানকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রায় সাড়ে ১২শ গ্রাহক তিতাসের সার্ভারে এন্ট্রি হয়ে গিয়েছিল এক রাতে। কম্পিউটারে এন্ট্রি হয়ে গিয়েছিল। এন্ট্রির করার জন্য দু-তিনজন লোক ঢুকেছে। তারা ঠিকাদারের লোক। তারা অফিসে ঢুকেছে রাতে। এ ঘটনায় উপমহাব্যবস্থাপক ও ব্যবস্থাপককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ভাটারা থানার মামলার এজাহারে বলা হয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সামী এন্টারপ্রাইজের মালিক রাকিব অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনকে নিয়ে তিতাস কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। যাদের মধ্যে চার-পাঁচজন ডেটা এন্ট্রিতে পারদর্শী ছিলেন। তিতাস কর্মকর্তাদের সহায়তায় তারা কুড়িল কার্যালয়ের কম্পিউটার রুমে বেআইনিভাবে প্রবেশ করেন। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ওই গ্রাহকের সংযোগে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও এন্ট্রি করে দেওয়া হয়। এজাহারে আরও বলা হয়, তিতাসের তদন্তে রাকিবের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা প্রহরী মাসুদুল সেদিন দায়িত্ব থাকার পরও ইচ্ছাকৃতভাবে অনুপস্থিত থেকে তাদের কার্যালয়ে প্রবেশে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেন। আরেক নিরাপত্তা প্রহরী আবুল কালাম আজাদ তিতাস গ্যাসের মিরপুর কার্যালয়ে কর্মরত থাকলেও বহুসংখ্যক গ্রাহকের অবৈধ সংযোগ দেওয়ার পেছনে জড়িত থাকার বিষয়টি তিতাস গ্যাসের তদন্ত কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।