চমেক হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন দগ্ধরা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডজনিত বিস্ফোরণে দগ্ধ ও আহত সকলেরই করুণ অবস্থা। দগ্ধদের মধ্যে কারও হাত, কারও পা, কারও বুক এবং চোখে আঘাত রয়েছে। ক্ষতস্থানে সাদা ব্যান্ডেজ মোড়ানো অবস্থায় কাতরাচ্ছেন বিছানায়। গতকাল বুধবার দুপুরে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ও সার্জারি ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা গেছে এই দৃশ্য। তবে যারা কম দগ্ধ হয়েছিলেন তাদের অবস্থা অনেকটাই ভালো।

দগ্ধ মো. সেকান্দার নামের একজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিস্ফোরণে হাত, পাসহ তার শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন তার চোখেও নাকি আঘাত হয়েছে। শরীরের এখন কী অবস্থা জানতে চাইলে সেকান্দার বলেন, পুরো শরীরে জ্বালা যন্ত্রণা করছে। ব্যান্ডেজ যেখানে লাগানো হয়েছে, সেখানে শুধু চুলকায়। দোয়া করেন যাতে দ্রুত সুস্থ হতে পারি।

আরেক দগ্ধ রোগী তোফাজ্জল হক। তার এক স্বজনের কাছে কী অবস্থা জানতে চাইলে বলেন, ‘ওইদিন যখন বিস্ফোরণ হইছিল তখন ডিপো থেকে দ্রুত বের হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বের হতে পারেননি। অনেকে একসঙ্গে বের হচ্ছিলেন তাই ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেছিলেন। তখন তিনি দগ্ধ হয়েছেন। পায়ে আঘাত লেগেছে। চোখেও আঘাত লেগেছে তার। তবে চিকিৎসরা বলেছেন তিনি সুস্থ হয়ে যাবেন।’

সেকান্দার বা তোফাজ্জলের মতো অনেকেই বার্ন ইউনিট ও সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। তাদের কারও শরীরের ১০ শতাংশ, কারও ৩০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে। তবে সেখানে এখন আশঙ্কাজনক অবস্থায় কেউ নেই। সবাই ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। 

বর্তমানে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিয়ে জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, সীতাকুণ্ডে দগ্ধ ও আহত মোট ২১০ জন চমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। গতকাল ৬ জনকে চোখের ও ২ জনকে বার্নের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ৫৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। চিকিৎসক-নার্সরা তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছেন।