হাইকোর্টের আদেশ

সমাজসেবা দপ্তরে বাবুলের সন্তানদের বক্তব্য নিতে হবে

সাবেক এসপি (পুলিশ সুপার) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় তাদের দুই সন্তানকে শিশু আইনের বিধান মেনে মাগুরা জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। দুই শিশুর বিবৃতি রেকর্ডের ক্ষেত্রেও তদন্তকারী কর্মকর্তার উদ্দেশে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট।

গতকাল বুধবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের তারিখ নির্ধারণের অন্তত তিন দিন আগে তা জানাতে হবে এবং নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে শিশুদের দাদা (বাবুল আক্তারের বাবা) তাদের সমাজসেবা কার্যালয়ে নিয়ে আসবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গড়িমসি বা টালবাহানা করা যাবে না।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, শিশুদের বক্তব্য রেকর্ডের সময় শুধু দাদা থাকবেন। এছাড়া একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা ও জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বা তার মনোনীত কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন। শিশুদের নিরাপত্তা ও তারা যাতে কোনো ধরনের মানসিক চাপ অনুভব না করে, সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখতে বলেছে হাইকোর্ট। দুই শিশুর বক্তব্য রেকর্ডসংক্রান্ত হাইকোর্টের এ আদেশ বাস্তবায়ন করে আগামী ২৬ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত।

আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) মিতু হত্যা মামলার তদন্তের স্বার্থে দুই শিশু সন্তানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করে। গত ১৬ মার্চ চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা আদালত এক আদেশে শিশু আইন মেনে এবং সতর্কতার সঙ্গে পিবিআইকে বাবুল ও মিতুর সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন বাবুল আক্তারের বাবা আবদুল ওয়াদুদ মিয়া। গত মঙ্গলবার আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়।

আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পি। অ্যাডভোকেট শিশির মনির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্টের এ আদেশের ফলে শিশু আইনের বিধান মেনে সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কার্যালয়ে ওই শিশুদের বক্তব্য নিতে হবে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে।’

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রামের ওআর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তার স্বামী বাবুল আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ঘটনার পর তিনি দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে ঢাকার মেরাদিয়ায় শ^শুরের বাসায় ওঠেন। পরে মিতুর বাবা পুলিশের সাবেক পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন এ হত্যায় বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন। ২০১৭ সালের ২৪ জুন রাতে বাবুলকে শ্বশুরবাড়ি থেকে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে প্রায় ১৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। গত বছর ১০ মে বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। পরে এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তদন্ত শেষে এ মামলায় গত বছর ১২ মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পিবিআই। ওইদিন বাবুলে আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন পাঁচলাইশ থানায় বাবুলসহ আটজনকে আসামি করে আরেকটি হত্যা মামলা করেন।