ব্যাংকে রাখা আমানতের প্রকৃত সুদ কিছুটা কমে আসবে কোম্পানি করদাতাদের। আগামী বাজেটে কোম্পানিগুলোর জন্য এ খাতের উৎসে করার দ্বিগুণ হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান করপোরেট করহার বিবেচনায় ব্যাংক সুদের উৎসে করহার কোম্পানি করদাতার জন্য ১০ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি। এর ফলে কোম্পানিগুলো ব্যাংক আমানতের সুদ থেকে পাওয়া অর্থের ওপর বেশি সুদ দিতে হবে এবং তাদের প্রকৃত সুদ কমে আসবে।
এছাড়া ব্যাংকে ৫ কোটি টাকার বেশি আমানতধারীদের আবগারি শুল্কও বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বর্তমানে ৫ কোটি টাকার বেশি ব্যাংক স্থিতির পর (বছরে যেকোনো সময়) ৪০ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য রয়েছে। এ আবগারি শুল্ক ১০ হাজার বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি।’ তবে ৫ কোটি টাকার নিচে আমানত থাকলে তার আবগারি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করেননি তিনি। এতে তুলনামূলক কম আয়ের মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে থাকবেন।
আবগারি শুল্ক বাড়ানোর যে প্রস্তাবনা অর্থমন্ত্রী করেছেন তাতে সরকার বর্তমানের চেয়ে ২৯ কোটি টাকার মতো বেশি রাজস্ব আদায় করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ব্যাংক খাতে ৫ কোটি টাকার বেশি স্থিতি থাকা ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার ৯২৯টি।
বর্তমানে ব্যাংক হিসাবে ৯৯ হাজার টাকা পর্যন্ত কোনো আবগারি শুল্ক দিতে হয় না। ১ লাখ থেকে ৫ লাখ পর্যন্ত টাকা থাকলে ১৫০ এবং ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত থাকলে ৫০০ টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হয়। এছাড়া ১০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকায় ৩ হাজার এবং ১ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা আমানতে ১৫ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক রয়েছে। আর বাজেট প্রস্তাব পাস হলে ৫ কোটি টাকার বেশি আমানতে আবগারি শুল্ক হবে ৫০ হাজার টাকা।