বাংলাদেশের মতো দেশগুলো ঘাটতি ধরেই বাজেট প্রণয়ন করে থাকে। স্বাধীনতার পর থেকেই এ ধারা অব্যাহত রেখে ৫১টি বাজেট দেওয়া হয়েছে। আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে সরকারের আয় দিয়ে ব্যয় মেটাতে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা ঘাটতি ধরা হয়েছে। যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ঘাটতির তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
সাধারণত ঘাটতি অর্থায়ন মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে আসন্ন বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে জিডিপির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ঘাটতি অর্থায়নের জন্য বিদেশি উৎস থেকে অনুদানসহ ৯৮ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা ঋণ পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা ঋণ নিতে হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। যা চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের মূল বাজেটের ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রার থেকে ৩৯ শতাংশ এবং সংশোধিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২২ শতাংশ বেশি।
চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। গত মে মাস পর্যন্ত এ খাত থেকে সরকার প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়। তবে সংশোধিত বাজেটে ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৮৭ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা করা হয়েছে।
অন্যদিকে আসন্ন বাজেটের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সরকার ৪০ হাজার ১ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে সঞ্চয়পত্র থেকে ৩৫ হাজার কোটি এবং অন্যান্য ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ঋণ আসবে ৫ হাজার ১ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ৩২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। গত জুলাই-এপ্রিল সময়ে এ খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ এসেছে ১৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা।
আসন্ন অর্থবছরে সরকার সামগ্রিকভাবে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে সরকারের রাজস্ব আয় থেকে আসবে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।