কোম্পানির আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা আনাসহ শর্তসাপেক্ষে করপোরেট করে ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বা তালিকাভুক্ত নয়, এমন সব কোম্পানির জন্য শর্তসাপেক্ষে করপোরেট কর বিদ্যমান হারের তুলনায় আড়াই শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করেছেন তিনি।
তবে ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিড়ি-সিগারেট, মোবাইল অপারেটর এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের করহারে কোনো ছাড় নেই প্রস্তাবিত বাজেটে।
সব কোম্পানি সব ধরনের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা আনুক, ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করুকএমন লক্ষ্য রেখে করপোরেট বা প্রাতিষ্ঠানিক করহারে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে আয়-ব্যয়ের পুরোটা ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। শুধু ব্যয় বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২ লাখ টাকা নগদে খরচ করা যাবে, এর বেশি নয়। এ শর্ত পূরণ না হলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির করহার বর্তমানের মতো ৩০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
তবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে এ শর্তের বাইরে অতিরিক্ত শর্ত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এক্ষেত্রে বলেছেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে যারা আইপিও প্রক্রিয়ায় ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ছেড়েছে, কেবল তারাই এ আড়াই শতাংশ করছাড় পাবে। অর্থাৎ ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে বর্তমানের মতো সাড়ে ২২ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। এ শর্তের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ছাড়াতে উদ্বুদ্ধ করেছেন তিনি।
তবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে আরও একটি শর্ত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তার প্রস্তাব, আইপিও প্রক্রিয়ায় ১০ শতাংশ বা তার কম শেয়ার বিক্রি করে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানি আড়াই শতাংশ করছাড় পাওয়ার যোগ্য হবে না। অর্থাৎ এমন কোম্পানির করহার বর্তমানের মতো সাড়ে ২২ শতাংশ বহাল থাকবে। তবে ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেনের শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হলে উল্টো আড়াই শতাংশ করহার বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোনো কোম্পানি নেই, যারা ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ছেড়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। ফলে এসব কোম্পানির কোনোটিই করছাড়ের আওতায় আসছে না। উপরন্তু আইপিওতে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিরগুলোর কোনোটি যদি ব্যাংকের মাধ্যমে আয়-ব্যয় হিসাব সম্পাদনে ব্যর্থ হয়, তার করহার আড়াই শতাংশ বেড়ে যেতে পারে।
এ ছাড়া আগের মতো ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মার্চেন্ট ব্যাংক, সিগারেট ও বিড়িসহ তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী, মোবাইল অপারেটর কোম্পানির করপোরেট করহার পৃথক এবং অপরিবর্তিত থাকছে। আবার এসব কোম্পানিকে তাদের আয় ও ব্যয় ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেনের শর্ত দেননি অর্থমন্ত্রী।
২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট করহার তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং তালিকাভুক্ত না হলে ৪০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংকের ক্ষেত্রে এ হার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ বহাল রাখা ও সিগারেট-বিড়িসহ তামাকজাত পণ্যের করপোরেট করহার ৪৫ শতাংশ এবং আড়াই শতাংশ সারচার্জ বহাল থাকছে। মোবাইল অপারেটর কোম্পানির তালিকাভুক্ত হলে ৪০ শতাংশ, তালিকাভুক্ত না হলে ৪৫ শতাংশ করহার দিয়ে যেতে হবে।
এ ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের করপোরেট করহার বর্তমানের মতো ১৫ শতাংশ বহাল রাখার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। ব্যাংকের মাধ্যমে আয়-ব্যয়ের লেনদেন সম্পাদনের শর্ত এদের জন্য নেই। ব্যক্তি সংঘের করহার ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করার শর্তে আড়াই শতাংশ কমিয়ে সাড়ে ২৭ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।