ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন মোবাইল ফোনে ছবি তোলার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিম। গতকাল শুক্রবার কার্জন হলের পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে রমনা থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী।
সংশ্লিষ্টরা জানান, উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান কার্জন হল পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনে এলে ওই সময় দরজার বাইরে থেকে ভেতরের ছবি তোলে ওই দুজন। পরে তাদের আটক করা হয়। তাদের একজনের নাম সিয়াম, তার বাড়ি কুষ্টিয়ায়। অন্যজনের নাম মাশরাফি, তার বাড়ি ফেনীতে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন দুজন মোবাইলে ছবি তুলেছিল। এ কারণে আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের আটক করেছি। তাদের মোবাইল চেক করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
আজ শনিবার সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিট আর ১৭ জুন চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘চ’ ইউনিটের সাধারণজ্ঞান পরীক্ষা হবে। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে পাঁচটি ইউনিটের অধীন (ক, খ, গ, ঘ ও চ) ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ৬ হাজার ৩৫ শিক্ষার্থী এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। এ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন ২ লাখ ৯০ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী।
এদিকে ‘ক’ ইউনিটের পরীক্ষা চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া কয়েকজন সাংবাদিককে খামে ভরে টাকা দেওয়া নিয়ে হট্টগোল হয়েছে। বেলা সোয়া ১১টার দিকে কার্জন হল কেন্দ্র পরিদর্শনে যান বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে উপাচার্য পরীক্ষা নিয়ে সাংবাদিকদের বিফ্র করেন।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের সেকশন অফিসার শুভাশীষ রঞ্জন সরকার বেশ কয়েকজন টেলিভিশন সাংবাদিককে খামে করে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করেন। তবে সাংবাদিকরা সেই টাকা গ্রহণ করেননি। এ প্রস্তাবে সাংবাদিকদের কেউ কেউ ক্ষোভও প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে শুভাশীষ রঞ্জন সরকার বলেন, ‘আমি যখন ওখানে গিয়েছিলাম, তখন ডিন অফিস থেকে একজন স্যার আমাকে বললেন আপনি তো পিআর থেকে এসেছেন। সাংবাদিকদের তো আমরা কোনো চা-নাশতা করাতে পারিনি। একটা অনারিয়াম ছিল, এগুলো দেওয়ার ব্যবস্থা করলে ভালো হতো।’
ফার্মেসি অনুষদের ডিন ড. সীতেশ চন্দ্র বলেন, ‘এটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমরা সাধারণত অনারিয়াম রাখি না। বিষয়টি কী হয়েছিল, তা আমরা খতিয়ে দেখব।’
অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘সাধারণত আমাদের কেউ এ ধরনের কাজ করে না। যেসব বিষয় অপ্রাসঙ্গিক এবং যেগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানের সঙ্গে যায় না; সেগুলো কেউ না করি, সেটা আমাদের কাম্য।’