করপোরেট কর হ্রাসের সুবিধা পাবে না তিন কোম্পানি

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কোম্পাানির আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা আনাসহ শর্তসাপেক্ষে করপোরেট করে ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বা তালিকাভুক্ত নয়, এমন সব কোম্পানির জন্য শর্তসাপেক্ষে করপোরেট কর বিদ্যমান হারের তুলনায় আড়াই শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করেছেন তিনি। তবে করপোরেট করহ্রাসের এ সুবিধা পাচ্ছে না তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানি। কোম্পানিগুলো হচ্ছে- ম্যারিকো বাংলাদেশ, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ ও ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।

গত ৯ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল শর্তসাপেক্ষে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট কর হার ২২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে যারা আইপিও প্রক্রিয়ায় ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ছেড়েছে, কেবল তারাই এ আড়াই শতাংশ কর ছাড় পাবে। এ হিসেবে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে বার্জার, ম্যারিকো ও ইউনাইটেড পাওয়ার করহ্রাসের এ সুবিধা পাচ্ছে না। তবে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ সবচেয়ে কম শেয়ার নিয়ে তালিকাভুক্ত হলেও হাইটেক পার্ক হিসেবে নিবন্ধিত থাকায় কোম্পানিটি কর অবকাশের সুবিধা ভোগ করছে।

বার্জার বাংলাদেশ ৫ শতাংশ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। আর ম্যারিকো ও ইউনাইটেড পাওয়ার ১০ শতাংশ শেয়ার ছেড়ে তালিকাভুক্ত হয়েছে। বাজারে এসব কোম্পানির ১০ শতাংশের বেশি ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার না থাকায় করপোরেট করহ্রাসের সুবিধাটি পাওয়া যাবে না।  

গত বৃহস্পতিবার সব কোম্পানি সব ধরনের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা আনুক, ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করুক- এমন লক্ষ্য রেখে করপোরেট বা প্রাতিষ্ঠানিক করহারে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। এক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে আয় ব্যয়ের পুরোটা ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে বর্তমানের মতো ২২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। তবে ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেনের শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হলে উল্টো আড়াই শতাংশ করহার বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন। শুধু ব্যয় বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২ লাখ টাকা নগদে খবচ করা যাবে, এর বেশি নয়। এ শর্ত পূরণ না হলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির কর হার বর্তমানের মতো ৩০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

বিভিন্ন কোম্পানির করহার কমালেও ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিড়ি-সিগারেট, মোবাইল অপারেটর এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর হারে কোনো ছাড় নেই আগামী বাজেট প্রস্তাবনায়।

২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট করহার তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং তালিকাভুক্ত না হলে ৪০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংকের ক্ষেত্রে এ হার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ বহাল রাখার এবং সিগারেট-বিড়িসহ তামাকজাত পণ্যের করপোরেট করহার ৪৫ শতাংশ এবং আড়াই শতাংশ সারচার্জ বহাল থাকছে। মোবাইল অপারেটর কোম্পানির তালিকাভুক্ত হলে ৪০ শতাংশ, তালিকাভুক্ত না হলে ৪৫ শতাংশ করহার দিয়ে যেতে হবে।

এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের করপোরেট করহার বর্তমানের মতো ১৫ শতাংশ বহাল রাখার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। ব্যাংকের মাধ্যমে আয়-ব্যয়ের লেনদেন সম্পাদনের শর্ত এদের জন্য নেই। ব্যক্তি সংঘের করহার ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করার শর্তে আড়াই শতাংশ কমিয়ে সাড়ে ২৭ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন।