পদ্মা সেতু উদ্বোধনের তদারকিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য (এমপি) ও দায়িত্বপ্রাপ্তরা। প্রায় প্রতিদিনই সেতু এলাকা পরিদর্শন করছেন কেউ না কেউ। ২৫ জুন উদ্বোধনের দিন শুধু পদ্মা সেতু এলাকাতেই নয়, একযোগে দেশের ৬৪ জেলায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, স্বাধীনতার ৫০ বছরের ইতিহাসে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হবে সবচেয়ে বড় ও জমকালো।
গতকাল শনিবার মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালাবাড়ী ইউনিয়নের বাংলাবাজার ঘাট এলাকা (যেখানে ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভা করবেন) পরিদর্শনে এসে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন।
এদিকে নৌ প্রতিমন্ত্রীর আসার খবরে বাংলাবাজার ও শিমুলিয়া এ দুই ঘাটের শ্রমিকরা জড়ো হন। সেতু চালু হলে তারা কর্মহীন হয়ে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
পরিদর্শন শেষে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাকে ঘিরে বিভিন্ন দপ্তর থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে কাজ চলছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তিন শতাধিক লঞ্চ বাংলাবাজার ঘাটে আসবে, সেগুলো কীভাবে নোঙর করা হবে, সেসব বিষয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জনগণকে কীভাবে সঠিক সেবা দেওয়া যায়, সেটার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী, মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনীর চৌধুরী, পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেলসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে দুই পাড়েই উৎসবের আয়োজন হবে। নদীকে ঘিরে যাদের জীবন ও জীবিকা, তারা সবাই এই উৎসবে সমবেত হবে।’
সেতু চালু হলেও শিমুলিয়া ঘাট থাকবে এবং পর্যটন ও ইকোজোন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নদীকে থামিয়ে রাখা যাবে না, নদী বহমান। নদীকে ঘিরেই আমাদের জীবন-জীবিকা। নদীর সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক, সেটা বন্ধ করা যাবে না। এসব অব্যাহত থাকবে। শিমুলিয়া ঘাট থাকবে, এ ফেরি সার্ভিসের চাহিদা আছেÑ এই ফেরি সার্ভিস চলাচল অব্যাহত থাকবে। দূরপাল্লার যানবাহনগুলো এ রুটটি বেছে নেবে। কারণ ফেরিতে তাদের একটি বিশ্রাম হবে। এটা আমাদের ড্রাইভার, অ্যাসিস্ট্যান্টদের জন্য খুবই জরুরি। যমুনা সেতুর পাড়ে প্রধানমন্ত্রী একটি রেস্ট এরিয়া করেছেন বিশ্রামের জন্য। পদ্মায় এই ফেরি সার্ভিস তেমন কাজ করবে। পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য এর চাহিদা থাকবে।’
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের নৌপর্যটন ছিল না, এই পদ্মা সেতুকে ঘিরে এখানে একটি পর্যটন তৈরি হয়ে গেছে। মনে করা হচ্ছে শিমুলিয়ায় মানুষ আসবে না, কিন্তু আমরা মনে করছি এর চাহিদা আরও বাড়বে। সেতু চালু হলেও শিমুলিয়া ঘাটে মানুষের চাহিদা বেড়ে যাবে। নদীকেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠবে। শিমুলিয়ায় পর্যটনকেন্দ্রিক ইকোজোন গড়ে তোলা হবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে বহুমাত্রিক যোগাযোগব্যবস্থা, রেল, নদী, আকাশ ও সড়কপথ রয়েছে। তার মধ্যে সড়ক বাদ দিলে বাকি তিনটি মৃতপ্রায় ছিল। বর্তমানে চতুর্মুখী যোগাযোগব্যবস্থা চালু হয়েছে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া রেল সংযোগ হয়ে যাচ্ছে।’
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী বলেন, ‘২৫ জুন প্রতিটি জেলায় একসঙ্গে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আনন্দ উৎসব উদযাপিত হবে, এটি দেশের মানুষের জন্য বড় চমক। এ ছাড়া পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরও ৩০ জুন পর্যন্ত সভাস্থলে উদযাপিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।’