বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম এলাকায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত শনিবার দুজন এবং গতকাল রবিবার আরেকজনের মৃত্যু হয়। থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ গতকাল দুপুরে এসব তথ্য জানান।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃতরা হলেন রেমাক্রি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেন থাংপাড়ার বাসিন্দা আমেন ম্রোর ছেলে কার্বারি মেনথাং ম্রো (৪৮), লংঙানপাড়ার বাসিন্দা মেনপুং ম্রোর ছেলে লংঙান ম্রো (৫০) এবং একই ওয়ার্ডের সিং চংপাড়ার বাসিন্দা মেন রো ম্রোর ছেলে প্রেন ময় ম্রো (১১)।
ডা. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, থানচির রেমাক্রি ও তিন্দু ইউনিয়নে ডায়রিয়ার তীব্র প্রকোপ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রেমাক্রি, বড়মদক ও আন্ধারমানিকে তিনটি মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও বিজিবির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র পাঠানো হয়েছে ওইসব এলাকায়।
থানচির দুর্গম এলাকাগুলোতে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা জানতে চাইলে এ চিকিৎসক বলেন, ‘এলাকাগুলো দুর্গম। মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক নেই। মেডিকেল টিম ফিরে এলে আক্রান্তের সংখ্যা সঠিক বলা যাবে। তবে এখন পর্যন্ত ৬০ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর জানি।’
রেমাক্রি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুই শৈ থুই মার্মা জানান, বর্ষা মৌসুম হওয়ার কারণে দুর্গম এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ঝিরি-ঝরনা-খালের পানি দূষিত হয়ে গেছে। ময়লা পানি পান করে পাহাড়ের বাসিন্দারা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বান্দরবানের সিভিল সার্জন নিহার রঞ্জন নন্দী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘থানচিতে ডায়রিয়ায় প্রকোপ দেখা দেওয়া এলাকাগুলো খুব দুর্গম হওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা খুব খারাপ। আমরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এলাকায় বিজিবির সঙ্গে কাজ করছি। বিনামূল্যে ওষুধপত্র দেওয়া হচ্ছে। বেশিরভাগ মানুষই ঝিরির ময়লা পানি খাওয়ার কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১২ জনের মতো ভর্তি আছে।’