চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত শেষ করতে আরও ৫ দিন সময় চেয়েছে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটি। কমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান গতকাল রবিবার এই সময় চেয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন করেন।
গত ৪ জুন রাতে ডিপোতে অগ্নিকান্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনার পরদিন ৯ সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিন। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এ প্রতিবেদককে জানান, তদন্তকালে কয়েক দফা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ডিপো কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ডিপোর তদারকি সংস্থাগুলোর কাছ থেকেও তারা কিছু নথি চেয়েছেন। যারা অগ্নিনির্বাপণের কাজে ছিলেন, তাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও তারা পেয়েছেন। সবকিছু মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হবে। তাই ৫ দিন সময় বাড়ানোর জন্য তারা চিঠি দিয়েছেন।
বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির অপর সদস্যরা হলেন পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাকির হোসেন, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার ড. আবু নুর রাশেদ আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুফিদুল ইসলাম, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুমনী আকতার, সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের মেজর আবু হেনা মো. কাউসার জাহান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আনিসুর রহমান ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত ৯ সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটিও কাজ করছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক বদিউল আলমকে আহ্বায়ক করে গঠিত ওই কমিটিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল করিম, সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাহাদাত হোসেন, শিল্প পুলিশের এএসপি জসিম উদ্দিন, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সজীব কুমার চক্রবর্তী, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক আবদুল্লাহ আল সাকিব মুবাররাত, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন সিকদার ও বিস্ফোরক পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন সদস্য হিসেবে রয়েছেন। কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ৭ কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়েছে।
কমিটির সদস্য পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের তদন্ত কার্যক্রম চলছে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো, সেখানে রাসায়নিক পদার্থ রাখার বৈধতা, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, তথ্য গোপনসহ বিভিন্ন বিষয় আমরা খতিয়ে দেখছি।’
বিএম কন্টেইনার ডিপোতে আগুন ও কন্টেইনার বিস্ফোরণের শিকার হয়ে এ পর্যন্ত ১০ ফায়ার সার্ভিস কর্মী, ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৪৮ জন নিহত হয়েছেন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৭৫ জন। ঘটনার চারদিন পর পুলিশ বাদী হয়ে সীতাকুন্ড- থানায় একটি মামলা দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত মামলায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।