মাওয়া প্রান্তে ঝলমল করে উঠল পদ্মা সেতু

উদ্বোধনের বাকি আর ১১ দিন। শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। উৎসব আয়োজনের জন্য তৈরি হচ্ছে পদ্মা সেতু। বিদ্যুৎ-সংযোগের মাধ্যমে ঝলমল করে জ্বলে উঠল আলো। গতকাল সোমবার বিকেলে মাওয়া প্রান্তের ল্যাম্পপোস্টে একসঙ্গে ২০৭টি বাতির সবগুলো জ্বালানো হয়। গত ৪ জুন বিকেলে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানো হয়েছিল সেতুতে। ওইদিন সেতুর ১৪ থেকে ১৯ নম্বর পিলারের মাঝামাঝিতে ২৪টি ল্যাম্পপোস্টে বাতি জ্বালানো হয়েছিল। তারপর ১১ জুন পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে সেতুর সব কটি বাতি জ্বালানো হয়। তবে তখন বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল না, জেনারেটের মাধ্যমে এসব বাতি জ্বালানো হয়।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আবদুল কাদের সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। মুন্সীগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির দেওয়া বৈদ্যুতিক সংযোগের মাধ্যমে এই প্রথম মাওয়া প্রান্তের ২০৭টি ল্যাম্পপোস্টে বাতি জ্বালানো হয়েছে। এর আগে পরীক্ষামূলক ভাবে সেতুতে জেনারেটরের মাধ্যমে আলো জ্বালানো হয়েছিল। 

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুর বুকে বৈদ্যুতিক বাতি রয়েছে ৪১৫টি। আর দু’পাশের সংযোগ সড়কে রয়েছে আরও ২০০ বাতি। গেল বছরের ২৫ নভেম্বর মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে প্রথম ল্যাম্পপোস্ট বসানোর কাজ শুরু হয়েছিল। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল এসব ল্যাম্পপোস্ট বসানো ও এর মধ্যে বাতি লাগানোর কাজ শেষ হয়। এরপর পুরো সেতুতে কেব্ল টানা হয়েছে। গেল ২৪ মে প্রথমে শরীয়তপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি সেতুতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়। ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেতু কর্র্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা প্রান্তে ৪২ নম্বর পিয়ারে এ বিদ্যুত সংযোগ প্রদানের কাজ শেষ হয়। এরপর মুন্সীগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিও সেতুতে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করে। সর্বসাকুল্যে ৩০ মে প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কাজ শেষ করে মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি।

আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। পরদিন সকাল থেকে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন দ্বার উন্মোচন হতে চলেছে।

এদিকে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ বলেছেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে। এই সমন্বিত ব্যবস্থায় যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে তার জন্য সব মন্ত্রণালয়কে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

গতকাল নারায়ণগঞ্জে কালিরবাজার রেলস্টেশন এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সেকশনে বিদ্যমান মিটারগেজ রেললাইনের সমান্তরাল ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শনে এসে খালিদ মাহমুদ এ কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ও বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেকসহ দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।