আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকান্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন সংসদ সদস্যরা। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বলেছেন, পুলিশ এখন দলীয় বাহিনী। তারা বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, হেফাজতে নির্যাতন, সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সরকার পুলিশকে সব কাজের লাইসেন্স দিয়েছে।
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ সালের সম্পূরক বাজেটের ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা এসব কথা বলেন।
বিএনপির রুমিন ফারহানা বলেন, এই সরকারের আমলে পুলিশ রাষ্ট্রীয় বাহিনী নয়, পরিণত হয়েছে দলীয় বাহিনীতে। পুলিশের কাছে নতুন সমস্যায় পড়তে হয় কি না, এই আশঙ্কায় মহাবিপদে পড়লেও মানুষ তাদের কাছে যেতে চায় না। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিচারবহির্ভূত গুম-হত্যা তো রয়েছেই।
জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, আজকে পুলিশের কেউ অন্যায় করলে মানবাধিকার কমিশন নিশ্চুপ থাকে। কোনো পুলিশ অন্যায় করলে সব পুলিশ একত্র হয়ে তাকে সাপোর্ট করে। ফলে অসহায় হয়ে যায় জুডিশিয়ারি। জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, কিন্তু তাদের যাওয়ার জায়গা নেই। পুলিশকে বুঝতে হবে। পি ফর পেলাইট। আমাদের পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে জনগণকে তাদের চাকর মনে করে। পুলিশের দায়বদ্ধতা প্রয়োজন। পুলিশ মনে করে অস্ত্র তার হাতে। তার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। তারা সীমাহীন ক্ষমতার মালিক।
এ সময় তিনি সংসদে মানবাধিকারবিষয়ক সর্বদলীয় স্পেশাল কমিটি করার প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, এই মানবাধিকারবিষয়ক কমিটি জনগণের যেকোনো অভিযোগ এলে তা তদন্ত করবে।
বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, পুলিশ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলার বাদী ও সাক্ষী হয়ে প্রমাণ করে যে দেশের বিচারব্যবস্থার অবস্থা কতটা নাজুক। সরকারি দল চায় পুলিশ তাদের কথামতো চলবে। এই ধারা থেকে বের হয়ে না আসতে পারলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে নিতে পারব না।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বিলুপ্ত করে দেন। এটাকে ন্যস্ত করেন পুলিশ বাহিনীর হাতে। কী প্রয়োজন, খামাখা। পুলিশের আইজিপিকে প্রধান করে দেন। তাদের অধীনে নির্বাচন দেন। দরকার নেই। আইন করেন সংসদে। সেভাবে নির্বাচন হবে।
এসব বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, এতে ওনারাই প্রমাণ করেছেন যে এটা নেহাত রাজনৈতিক বক্তব্য। পুলিশের কাজ দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন। বর্তমান সরকারের অধীনে পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। আপনারা জানেন, অনিয়মের কারণে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা চাকরি হারাচ্ছে। বাড়াবাড়ির কারণে অনেকে বিচারের মুখোমুখি হয়েছে। পেয়েছে শাস্তি।
হাজার হাজার পুলিশ নিয়োগ হচ্ছে যার একটিতেও কোনো ধরনের ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নেই বলে দাবি করেন মন্ত্রী।