যে আত্মবিশ্বাস-স্বপ্ন নিয়ে এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব শুরু তার শেষটা হলো হতাশাজনক। বাংলাদেশের প্রাপ্তির খাতা ফের শূন্য। ভুলে যাওয়ার মতো আরেকটি রাত হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যদের।
মালেয়শিয়ার বিপক্ষে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে বাছাই শেষ করল লাল সবুজরা। এই ম্যাচে জামাল ভূঁইয়াদের জন্য পাওয়া না পাওয়ার মতো হয়তো কিছু ছিল না, তবে বুকিত জলিল স্টেডিয়ামে দেশের সন্তানদের সমর্থন দিতে আসা প্রায় ৭০ হাজার মালেয়শিয়ানদের জন্য ছিল বিশেষ কিছু।
বাংলাদেশকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে স্বাগতিকেরা। ২০০৭ সালের পর প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূলপর্বে জায়গা পেল মালেয়শিয়া। ‘ই’ গ্রুপে শীর্ষে থাকা বাহরাইনের পেছনে থেকে কাটল এশিয়ান কাপের টিকিট।
এমন ঐতিহাসিক মুহুর্তের জন্য আগে থেকে হয়তো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল কুয়ালালামপুরবাসী। পুরো ম্যাচে গলা ফাটাল তারা। উৎসাহ দিল খেলোয়াড়দের। প্রস্তুত রেখেছিল উদযাপনের উপাদান। মালেয়শিয়ান খেলোয়াড়রাও নিরাশ করেননি। শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবলে তছনছ করে দিতে চেষ্টা করে তারা ডুবিয়েছে বাংলাদেশকে।
৭ম মিনিটে হালিমের নিচু শট গোলপোস্ট না লাগলে এগিয়ে যেতে পারতো মালেয়শিয়া। অবশ্য গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষাও করতে হয়নি। কিম পান-গনের শিষ্যদের আক্রমণের মুখে খেই হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশ পেনাল্টি উপহার দিয়ে বসে। ডি-বক্সের ভেতর ওয়ান-টু খেলতে গিয়ে ভুল করে রক্ষণভাগে। ১৬তম মিনিটে সাফউয়ি রশিদের সফল স্পট-কিক। বলের দিকে ঝাঁপ দিয়েও জাল রক্ষা করতে পারেননি গোলরক্ষক জিকো।
প্রথম ম্যাচে বাহরাইনের বিপক্ষে বাংলাদেশ যেভাবে খেলেছিল তার প্রতিফলন ছিল এই ম্যাচ। শেষ মুহূর্তের গোল হারলেও তুর্কিমিনিস্তানের বিপক্ষে যে ছন্দে দেখা গিয়েছিল তার ছিঁটেফোঁটাও দেখাতে পারেনি মালেয়শিয়ার বিপক্ষে। সান্ত্বনা বলতে মোহাম্মদ ইব্রাহিমের একটি গোল।
আগের ম্যাচে তুর্কিমিনিস্তানের বিপক্ষে যেভাবে গোল করেছিলেন একইভাবে মালেয়শিয়ার বিপক্ষেও বাংলাদেশকে সমতায় ফেরান তিনি। ৩১তম মিনিটে বিশ্বনাথের লম্বা থ্রোয়ে রাকিবের ব্যাক হেড। পরের হেড ইব্রাহিমের, বাংলাদেশের গোলশোধ। তবে ১০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীর হাসি পরক্ষণে মিইয়ে যায়। ৩৮তম মিনিটে ডিয়ন কুলসের শট ঝাঁপ দিয়েও রুখে দিতে পারেননি জিকো। এমন গোল হজম অবশ্য তার সঙ্গে যায় না। জিকোর গ্লাভস ছুঁয়ে বল পাম্প করে ঢুকে যায় বাংলাদেশের জালে।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল হজম করে বাংলাদেশ। পুরো ম্যাচে আধিপত্য দেখানো মালেয়শিয়ানরা অবশ্য বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ পেয়েছিল। স্বস্তির হলো রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ও গোলরক্ষক জিকোর নৈপুণ্যে বেশ কয়েকবার রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশ। কাবরেরোর শিষ্যরাও নষ্ট করেছে সুযোগ। থ্রোয়ে ত্রাস সৃষ্টির পাশাপাশি সেট-পিসের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে লড়াইটাও জমিয়ে রাখতো পারতো বাংলাদেশ।
লাল সবুজদের দুটি গোলহজমের অন্যতম কারণ রক্ষণভাগ। ৪৭তম মিনিটে কর্ণার কিক পায় মালেয়শিয়া। তবে সরাসরি শট না নিয়ে বল মাঝমাঠে পাঠায়। সেখান থেকে উড়ে আসা বলে জিকোর সামনে থাকা শফিক আহমেদের হেড। তাকে মার্ক করার মতো রক্ষণভাগে কেউ ছিল না।
এই গোলে ম্যাচে ফেরার আশাও ধুসর হয়ে যায় বাংলাদেশের। তার মধ্যে ৭৩তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা ড্যারেন লকের গোল। এবারও দায় কাবরেরার অমনোযোগী রক্ষণভাগের। শেষদিকে আগোছালো ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। ৮২তম মিনিটে দু’দলের খেলোয়াড়েরা অল্প সময়ের জন্য হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। তবে ভালোভাবে তা সামাল দেন রেফারি।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ভয়ে ছিল মালেয়শিয়া। হারলেই এশিয়ান কাপের মূলপর্বে যাওয়ার পথে কঠিন সমীকরণের পড়তে হতো তাদের। প্রীতি ম্যাচে দু’দলের সর্বশেষ দুই ম্যাচ ড্র হয়েছিল। আর ২০১৫ সালের পর প্রথম দেখায় ঐতিহাসিক জয় পেল মালেয়শিয়া। যার কারণে নির্ভার ছিল না মালেয়শিয়া। দু’দলের মোট ১০ বারের দেখা সাতবার জিতল তারা। বাংলাদেশ পেয়েছে এক জয়। ১৯৮২ সালে, এশিয়ান গেমসে। র্যাঙ্কিং ও পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকা মালেয়শিয়ার জিতল এবারও।